Breaking News
Home / জানা অজানা / পদ্মার তলদেশের দানব গিলে ফেলছে পিলার! বন্ধ হয়ে যেতে পারে পদ্মা সেতু নির্মাণের কাজ।
Loading...

পদ্মার তলদেশের দানব গিলে ফেলছে পিলার! বন্ধ হয়ে যেতে পারে পদ্মা সেতু নির্মাণের কাজ।

পদ্মার তলদেশের দানব গিলে ফেলছে পিলার! বন্ধ হয়ে যেতে পারে পদ্মা সেতু নির্মাণের কাজ।

পদ্মা সেতু নির্মাণে অনিশ্চয়তা, গাঁথা যাচ্ছে না পিলার।

পদ্মার তলদেশে আরেকটা পদ্মার অস্তিত্ব রয়েছে বলে মনে করছেন প্রকৌশলীরা। তারা বলছেন, এ কারণেই পদ্মা সেতুর পিলারের দৈর্ঘ্য কত হবে, তা নির্ধারণ নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। এ পর্যন্ত পিলার গাঁথার জন্য যতবার চেষ্টা করা হয়েছে ততবারই তারা ব্যর্থ হয়েছেন। এখন পর্যন্ত মূল সেতুর কাজ ৫২ শতভাগ হওয়ার কথা থাকলেও শেষ হয়েছে ৪৪ ভাগ।

জানা গেছে, পদ্মা নদীর তলদেশের মাটির গভীরে যখন পিলার গাঁথা হয়, সেসব পিলার কোথায় যে হারিয়ে যায় তারও কোন হদিস নেই। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পদ্মার নিচে আরেকটা পদ্মার অস্তিত্ব রয়েছে বলে মনে হচ্ছে । ফলে মাওয়া প্রান্তে পুরোদমে পাইলিংয়ের কাজ শুরু করা যাচ্ছে না।
ভিডিও দেখতে এখানে ক্লিক করুন

তবে প্রকল্প পরিচালক বলছেন, সম্প্রতি দেশি বিদেশি পরামর্শকরা এ সমস্যার সমাধান করতে পেরেছেন।

৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ সেতুতে পিলার থাকবে মোট ৪২টি। এক একটি পিলারের প্রাথমিক দৈর্ঘ্য ধরা হয় প্রায় ১২০ মিটার। তবে শুরু থেকেই নদীর মাওয়া প্রান্তে মাটির তলদেশের গঠন বৈচিত্রের কারণে দৈর্ঘ্য নিয়ে জটিলতা দেখা দেয়। এই প্রান্তে ৬ ও ৭ নম্বর পিলারের কাজ ধরা হলেও পরে তা অর্ধসমাপ্ত রেখেই কাজ সরিয়ে নেয়া হয় জাজিরা প্রান্তে।

এখানে ৩৬ থেকে ৪২ নম্বর পিলার পর্যন্ত কাজ চলছে পুরোদমে। মাওয়া প্রান্তে ১ নম্বর এবং ৬ থেকে ১২ নম্বর পিলারের দৈর্ঘ্য কত হবে তা এখন পর্যন্ত নির্ধারণ করা যায়নি। ফলে অন্য পিলারগুলোতে কাজ ধরা হলেও বন্ধ আছে এ কয়টি পিলারের কাজ।

তবে সম্প্রতি সমস্যার সমাধান হয়েছে বলে জানালেন পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্প পরিচালক শফিকুল ইসলাম।তিনি বলেন, পদ্মায় যোগ হয়েছে বিশ্বের সর্বোচ্চ ৩ হাজার কিলোজৌল ক্ষমতাসম্পন্ন নতুন একটি হ্যামার। জার্মানিতে তৈরি এ হ্যামার প্রায় দেড়মাস সমুদ্র পাড়ি দিয়ে জুন মাসে মাওয়ায় এসে পৌঁছে। এটিকে এখন জাজিরা প্রান্তে পাইলিংয়ের কাজে ব্যবহার করা হবে। আগের দুটি হ্যামার এখন ব্যবহার হবে মাওয়া প্রান্তে।

আরো পড়ুন

পদ্মা সেতুর স্প্যান বসানোর ছবি দেখে কেঁদেছিলেন প্রধানমন্ত্রী।

পদ্মা সেতুর কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাওয়ার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, কাজ করতে এসেছি। দুর্নীতি করতে নয়।
প্রথমে অপপ্রচার শুরু করে। তা দেশে এবং বিদেশেও। পরে অর্থায়নও বন্ধ করা হয়। তবুও থেমে থাকিনি। যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যে প্রায় তিন সপ্তাহের সফর শেষে দেশে ফেরার পর শনিবার সকালে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দেওয়া সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, শত বাধার মুখে আমি বলেছিলাম, নিজেরাই করব। তাতে দেশে-বিদেশে বাঙালিরা সবাই বলেছেন, আপা আপনি করেন যা যা লাগে তাই দিয়ে পাশে আছি আমরা। এই যে মানুষের ভালোবাসা, মানুষের আস্থা অর্জন এটাই একজন রাজনীতিবিদের জন্য অর্জন। ক্ষমতার লোভে রাজনীতি করি না, অপবাদ মাথায় নেব কেন! কাজ করে দেখাচ্ছি।

গত শনিবার সকালে শরিয়তপুর জাজিরা নাউডোবা অংশে ৩১ ও ৩২ নম্বর পিলারে স্প্যান বসানো হয়েছে।

স্প্যানের কাজ শেষ করেই ওবায়দুল কাদের ম্যাসেজ দেন এ কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে ছিলাম। স্থানীয় সময় রাত ৩টায় মেসেজ এলো। জানলাম স্প্যান বসানো হয়েছে। জেগেই রয়েছি; বললাম ছবি পাঠাও। ওবায়দুল কাদের ছবি ও ভিডিও দুটাও পাঠালেন। সেগুলো দেখে দুই বোন (শেখ রেহানা) সেখানে কেঁদেছি। অনেক অপমানের জবাব আমরা দিতে পারলাম, এটাই সব থেকে বড় অর্জন।

এ ছাড়া অনেক উন্নত দেশ যা পারেনি, বাংলাদেশ তা করে দেখিয়েছে বলেও মত দেন তিনি। বলেন, পদ্মার বুকে সেতু নির্মাণ সহজ কথা নয়। অনেক স্রোত নিয়ন্ত্রণে রেখে কাজ করতে হচ্ছে। এ ছাড়া প্রাকৃতিক দুর্যোগের দেশ বাংলাদেশ, সেই দুর্যোগ মাথায় নিয়েও এগোচ্ছি।

Loading...