সরকার আবারও সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার হ্রাস করেছে, যা গত ছয় মাসের মধ্যে দ্বিতীয়বারের মতো। আজ বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) থেকে কার্যকর হয়েছে এই সিদ্ধান্ত, যা আগামী ছয় মাসের জন্য প্রোপ্রোচালিত। অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ (ইআরডি) নতুন করে এই হার ঘোষণা করেছে।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতি বছর সর্বোচ্চ মুনাফার হার নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ দশমিক ৫৯ শতাংশ এবং সর্বনিম্ন ৮ দশমিক ৭৪ শতাংশ। এর আগে, জুলাই মাসে একইভাবে সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার হ্রাস করা হয়েছিল। সরকারের আইনের অনুযায়ী, প্রতি ছয় মাসে একবার মুনাফার হার পর্যালোচনা করে তা সংশোধন করা হয়।
বিনিয়োগের পরিমাণ অনুযায়ী মুনাফার পার্থক্য বলা যায়, সাড়ে ৭ লাখ টাকার কম বিনিয়োগে, পাঁচ বছর মেয়াদের শেষে, মুনাফার হার ছিল ১১ দশমিক ৯৩ শতাংশ, সেটি এখন কমে হয়েছে ১০ দশমিক ৫৪ শতাংশ। আবার, সাড়ে ৭ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগে এই হার ছিল ১১ দশমিক ৮০ শতাংশ, যা এখন হয়েছে ১০ দশমিক ৪১ শতাংশ।
পেনশনার সঞ্চয়পত্রেও একই রকম হ্রাস দেখা গেছে। কম বিনিয়োগে (সাড়ে ৭ লাখের কম) পঞ্চম বছরে মুনাফার হার ছিল ১১ দশমিক ৯৮ শতাংশ, এখন কমে দাঁড়িয়েছে ১০ দশমিক ৫৯ শতাংশ। বেশি বিনিয়োগে, অর্থাৎ সাড়ে ৭ লাখের বেশি, আগে মুনাফার হার ছিল ১১ দশমিক ৮০ শতাংশ, এখন সেটি ১০ দশমিক ৪১ শতাংশে নেমে এসেছে।
পাঁচ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্রের ক্ষেত্রেও একই প্রভাব পড়েছে। কম বিনিয়োগের ক্ষেত্রে হার পড়ে গেছে ১১ দশমিক ৮৩ শতাংশ থেকে ১০ দশমিক ৪৪ শতাংশে, আর বেশি বিনিয়োগের হার বর্তমানে ১০ দশমিক ৪১ শতাংশ।
তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্রের ক্ষেত্রে, কম বিনিয়োগে (সাড়ে ৭ লাখের কম) মুনাফার হার আগে ছিল ১১ দশমিক ৮২ শতাংশ, এখন সেটা কমে ১০ দশমিক ৪৮ শতাংশ হয়েছে। বেশি বিনিয়োগে এর হার এখন ১০ দশমিক ৪৩ শতাংশ।
পুরোনো সঞ্চয়পত্রের ক্ষেত্রে, ১ জুলাই ২০২৫ তারিখের আগে ইস্যু হওয়া সমস্ত জাতীয় সঞ্চয় স্কিমে তখনকার নির্ধারিত মুনাফার হারই কার্যকর থাকবে। তবে পুনর্বিনিয়োগের সময় পুনর্বিনিয়োগের তারিখ অনুযায়ী মুনাফার হার প্রযোজ্য হবে। ছয় মাস পরে আবারো নতুন করে হার নির্ধারিত হবে।

