ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো জানিয়েছেন, তিনি মাদক পাচার ও তেলের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা করার জন্য প্রস্তুত। এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে তিনি প্রকাশ করেন, যুক্তরাষ্ট্র চাইলে ‘যেকোনো জায়গায়, যেকোনো সময়’ আলোচনা শুরু করতে তিনি রাজি আছেন। এই মন্তব্যের মাধ্যমে মাদুরো সরকার উচ্চ পর্যায়ের চাপের মধ্যে রয়েছে, যেহেতু এই কয়েক সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের চাপ আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।
মাদুরো এড়িয়ে গেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এক দাবির বিষয়ে, যেখানে ট্রাম্প অভিযোগ করেছিলেন যে, ভেনেজুয়েলায় একটি নোঙর সুবিধা লক্ষ্য করে মার্কিন হামলা চালিয়েছে, যা উইকিলিকসের দাবি অনুযায়ী সিআইএ পরিচালিত। বিবিসি জানিয়েছে, এই সময়ে তিনি এই কথা বললেন, যখন মার্কিন বাহিনী ক্যারিবিয়ান ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকায় মাদক পরিবহন সন্দেহে বেশ কিছু নৌযানকে নিশানা করছে।
এ পর্যন্ত ট্রাম্প প্রশাসন ৩০টির বেশি নৌযানে হামলা চালিয়েছে, যা আন্তর্জাতিক জলসীমায় ২ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হয়ে এখন পর্যন্ত ১১০ জনের বেশি নিহতের ঘটনায় অবদান রেখে চলেছে। সর্বশেষ হামলাটি ঘটে বুধবার, যেখানে মাদক বহনের অভিযোগে দুই নৌযানে আঘাত হানা হয়। মার্কিন সামরিক সূত্র জানায়, সেদিন ৫ জন নিহত হন।
ট্রাম্প দাবি করেন, ভেনেজুয়েলার ‘ডক এলাকায়’ মার্কিন হামলার মাধ্যমে এই ঘটনা ঘটেছে, যেখানে উল্লেখ করেন, একটি বড় বিস্ফোরণ ঘটেছে। বিভিন্ন সংবাদ সূত্র বলছে, সিআইএ পরিচালিত ড্রোন হামলায় এই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে থাকলেও, মাদুরো স্পষ্ট কিছু বলেননি। তিনি ক্ষুব্ধ বা নিশ্চিহ্ন করতে পারেন এমন কোনো নিশ্চিত উত্তর না দেওয়ায় বোঝা যায়, হয়তো এই ঘটনায় তিনি বিস্তারিত জানা বা ব্যাখ্যার জন্য অপেক্ষা করছেন।
এছাড়াও, মাদক পাচার, তেল ও অভিবাসন বিষয়ক আলোচনাও তিনি গুরুত্ব সহকারে নিচ্ছেন বলে জানানো হয়। ট্রাম্পের অভিযোগ অপ্রমাণিত থাকলেও, তিনি আঙুল দেখিয়ে বলছেন, মাদুরো তার দেশের কারাগার ও মানসিক আশ্রয় কেন্দ্রগুলো খালি করে বন্দিদের জোরপূর্বক মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পাঠাচ্ছেন।
এর প্রতি পাল্টা, ভেনেজুয়েলা জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপগুলো আন্তর্জাতিক জলদস্যুতা ও অর্থনৈতিক ন্যায্যতা অস্বীকার করেছে। একই সময়ে, যুক্তরাষ্ট্র প্রবেশে বা বের হওয়ার জন্য নিষেধাজ্ঞা জারি করা বিভিন্ন তেলবাহী ট্যাংকারের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছে। ১০ ডিসেম্বর উপকূলে জব্দ করা একটি জাহাজের বিষয়ে তারা দাবি করে, এটি ভেনেজুয়েলা ও ইরান থেকে নিষেধাজ্ঞাভুক্ত তেল পরিবহনের জন্য ব্যবহৃত হচ্ছিল। ভেনেজুয়েলা এই বিষয়টিকে ‘আন্তর্জাতিক জলদস্যুতা’ হিসেবে অভিহিত করেছে।
বিবিসির তথ্য অনুযায়ী, এখনো পর্যন্ত এই সমস্ত জাহাজের মাদক বহনের অভিযোগপূরণে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে, মার্কিন সাউদার্ন কমান্ড সপ্তাহান্তে দাবি করে, তাদের গোয়েন্দা তথ্য নিশ্চিত করেছে যে, এই নৌযানগুলো মাদক পাচারের জন্য পরিচিত রুটে চলাচল করছে এবং মাদক পাচারে জড়িত। তবে বিশ্লেষকেরা বলছেন, এই অভিযানে এখনো পর্যন্ত প্রমাণের অভাব রয়েছে, যা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন হতে পারে।

