ঢাকায় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জানাজায় অংশ নিতে এসে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর এবং পাকিস্তানের পার্লামেন্ট ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির স্পিকার সরদার আয়াজ সাদিকসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব উপস্থিত ছিলেন। এই দুই নেতা বাংলাদেশে তাদের আসার মূল উদ্দেশ্য ছিল বাংলাদেশ-ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের মধ্যে বন্ধুত্ব ও সমঝোতা সৃষ্টি। জানাজা শেষে তারা উভয়েই নিজ নিজ দেশে ফিরে গেছেন। তবে এর পর পাকিস্তানে ফিরে জয়শঙ্কর ও সরদার আয়াজের মধ্যে আলাপচারিতা নিয়ে বেশ আলোচনা শুরু হয়। জিও টিভির এক টকশো ‘আজ শাহজাইব খানজাদা কে সাথ’ অনুষ্ঠানে পাকিস্তানের স্পিকার এই সাক্ষাৎ ও আলাপচারিতা সম্পর্কে বিস্তারিত বলেছেন। তিনি জানিয়েছেন, সম্প্রতি পাকিস্তান, ভারত, নেপাল, ভুটান এবং মালদ্বীপ থেকে আসা প্রতিনিধিরা বাংলাদেশের পার্লামেন্ট ভবনে একত্রিত হন। সেখানেই প্রথমে তারা একসঙ্গে মিলিত হন এবং পরে ভারতীয় প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে এস জয়শঙ্করসহ অন্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়। আযাজ সাদিক জানান, তিনি নিজে তখন বাংলাদেশের পাকিস্তানি হাইকমিশনারের সঙ্গে কথা বলছিলেন। ঠিক তখনই জয়শঙ্কর এগিয়ে এসে স্বাগত জানান এবং নিজের পরিচয় দেন। যখন তিনি তাকে নিজের পরিচয় দিতে গেলেন, জয়শঙ্কর তাকে বললেন, ‘আমি আপনাকে চিনি জনাব, পরিচয় দেওয়ার প্রয়োজন নেই।’ এই সাক্ষাৎকারে আয়াজ সাদিক বলেন, যখন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তার সঙ্গে হাত মিলানোর জন্য এগিয়ে আসেন, তখন সেখানে উপস্থিত বিদেশি ও দেশি সাংবাদিকরা পুরো ক্যামেরা ও ছবি ধারণে সচেতন হয়ে ওঠেন। জয়শঙ্কর এ ব্যাপারে সম্পূর্ণভাবে ওয়াকিবহাল ছিলেন এবং এই বিষয়টি তিনি খুবই সচেতনভাবে করেছেন। আয়াজ সাদিক মন্তব্য করেন, জয়শঙ্কর অত্যন্ত সচেতন ছিলেন যে তার যা কিছু করছেন, সব ক্যামেরায় ধরা পড়ছে। তিনি স্পষ্টভাবে জানতেন যে তার কাজের সব কিছু মিডিয়ার ক্যামেরার সামনে হচ্ছে। এতে বোঝা যায়, এই সাক্ষাতে দুই নেতা তাদের সম্পর্ক ও মতবিনিময় কেমন ছিল, যা বাংলাদেশ-ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের মধ্যে এক নতুন দিক উন্মোচন করেছে।

