শরীয়তপুরের ডামুড্যা উপজেলায় বৃহস্পতিবার রাতে পৃথক এক ঘটনায় একজন ওষুধ ব্যবসায়ী ও গ্রাম্য চিকিৎসক খোকন দাস (৫০) কে ছিনতাইয়ের সময় চিনতে পারায় খুবই ভয়ঙ্কর হামলার শিকার হয়েছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, দুর্বৃত্তরা তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে এবং কাছের টাকা-পয়সা ছিনিয়ে নেয়। এরপর, খোকন দাসকে চিনে ফেললে তারা শরীর ও মুখে পেট্রল ঢেলে দিয়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। আত্মরক্ষার্থে স্থানীয়রা এগিয়ে আসলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, পরে অবস্থার অবনতি হওয়ায় ঢাকায় পাঠানো হয়।
খোকন দাস কনেশ্বর ইউনিয়নের তিলই এলাকার পরেশ দাসের ছেলে। তিনি একজন পেশাদার ওষুধ ব্যবসায়ী ও গ্রাম্য চিকিৎসক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পাশাপাশি মোবাইল ব্যাংকিং বিকাশের এজেন্ট হিসেবেও কাজ করতেন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি উপজেলার কেউরভাঙ্গা বাজারে একটি ওষুধের দোকান চালিয়ে আসছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার রাতে দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফিরছিলেন খোকন। পথিমধ্যে, বাড়ির কাছাকাছি পৌঁছালে তিন বা চারজন দুর্বৃত্ত তাকে রাস্তায় জোরপূর্বক দাঁড় করিয়ে দেয়। একপর্যায়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে এবং তার কাছের টাকা-পয়সা ছিনিয়ে নেয়। এরপর, যখন তিনি হামলাকারীদের চিনে ফেলেন, তখন নিজেদের চিহ্নিত করায় তারা খোকনের শরীরে পেট্রল ঢেলে দিয়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। তবে স্থানীয়রা চিৎকার শুনে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে হামলাকারীদের দাঁড় করায়, ফলে তারা পালিয়ে যায়।
আহত খোকন দাসের স্ত্রীর ভাষ্য, তিনি ঘটনাস্থলে এসে দেখেন তার স্বামীর শরীরে আগুন জ্বলছে। তার মাথা ও শরীরের বিভিন্নস্থানে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়েছে। বর্তমানে তার অবস্থা খুবই আশঙ্কাজনক। তিনি আমাদের বলেন, যারা এ হত্যাচেষ্টা চালিয়েছে, তাদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।
শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের চিকিৎসক মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, রোগীর মাথায় ও হাতে পোড়া চিহ্ন রয়েছে। তাঁর পেটে গুরুতর আঘাতের ঝুঁকি রয়েছে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ আলম বলেন, বাড়ি ফেরার পথে ওষুধ ব্যবসায়ীর কাছ থেকে টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়। তিনি চিনে ফেলায়, হামলাকারীরা তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে এবং কেরোসিন জাতীয় তরল দিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। এই ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত চলছে এবং দুষ্কৃতKathকদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

