পবিত্র রমজান মাস এখনো এক মাসেরও বেশি সময় বাকি থাকলেও এর আগে থেকেই নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম ওঠানামা করছে। ক্রেতাদের অভিযোগ, রোজার সময়ের জন্য প্রস্তুতি হিসেবে এসব পণ্যের দাম সাধারণত বাড়ে, আর এবার তার ছায়া Already পড়েছে বাজারে। বিশেষ করে চিনির দাম অপ্রত্যাশ্যরূপে বেড়ে গেছে। বাজারে বর্তমানে প্রতি কেজি চিনি বিক্রি হচ্ছে ১০৫ থেকে ১১০ টাকায়, যা গত সপ্তাহে ছিল ৯৫ থেকে ১০০ টাকায়। জানুয়ারির প্রথম দিকে, রাজধানীর কাঁচাবাজারগুলোতে স্বস্তির আভাস দেখা গেছে। মাছ ও মাংসের দাম যেখানে অপরিবর্তিত রয়েছে, সেখানে খাদ্যপণ্যগুলোর দাম কিছুটাStable। শুক্রবার (২ জানুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁও, শ্যামলী, কল্যাণপুর, মিরপুরসহ বিভিন্ন এলাকার কাঁচাবাজার ঘুরে এই চিত্র দেখা যায়।去年ের ডিসেম্বরে চিনির দাম ছিল প্রতি কেজি ৯০ টাকা। টিসিবি জানিয়েছে, এক মাসের মধ্যে চিনির দাম মোটামুটি ৫ শতাংশ বেড়ে গেছে। কাজীপাড়া এলাকার মুদি দোকানি আরিফ হোসেন জানান, পাইকারি বাজারে চিনির দাম বেশি থাকায় ব্যবসা কিছুটা উদ্বিগ্ন। তিনি বলেন, ‘প্রতি কেজি চিনিতে আমরা ৪-৫ টাকা লাভ করি। এখন খোলা বাজারে চিনির দাম ১০০ থেকে ১০৫ টাকা এবং ব্র্যান্ডভেদে বিক্রি হচ্ছে ১০৫ টাকা পর্যন্ত।’ দোকানিরা আরও বলছেন, চিনির দামের উঠানামা নিয়ে অনেকেই উদ্বিগ্ন। অনেকে চিনি হাতিয়ে রাখছেন আবার কেউ কেউ পরিচিত ক্রেতাদের ছাড়া বিক্রি বন্ধ করে দিয়েছেন। শ্যামলীর বিক্রেতা হিমেল মাহমুদ বলেন, ‘প্রতি বস্তা (৫০ কেজি) চিনিতে ৫০ টাকা বেড়ে গেছে। তবে অনেক দোকানে এখনো বাড়তি দামের প্যাকেট চিনি আসেনি।’ অন্যদিকে, বাজারে পেঁয়াজ ও আলুর দাম কমে এসেছে। নতুন আলু ও পেঁয়াজের সরবরাহ বৃদ্ধির কারণে এই পণ্যদুটির দাম নিম্নগামী হয়েছে। এখন পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৫৫-৬০ টাকা প্রতি কেজিতে, যা গত সপ্তাহে ছিল ৬৫-৭০ টাকা। ভারতীয় পেঁয়াজের দাম এখন ৬০-৬৫ টাকায় পৌঁছেছে। নতুন আলু মিলছে ১৫-২০ টাকায়। মিরপুরের পাইকপাড়ার এক বিক্রেতা হেলাল বলেন, ‘আমদানি করা পেঁয়াজের তুলনায় দেশি পেঁয়াজ কিছুটা কম দামে বিক্রি হচ্ছে। ক্রেতারা এখন বেশি করে দেশি পেঁয়াজ কিনছেন কারণ এটা খেতেও সুস্বাদু। নতুন আলুর দামও কমে গেছে, ফলে পুরনো আলু বিক্রি কম হচ্ছে।’ সরবরাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় শীতকালীন সবজি যেমন শিম, মূলা, বেগুন, বাঁধাকপি ও পেঁপের দামও কমেছে। এই সপ্তাহে শিমের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৪৫ টাকায়, যা আগের সপ্তাহে ছিল ৪০-৫০ টাকায়। মূলা এখন ৩০-৩৫ টাকায়, বেগুন ৪০-৬০ টাকায়, ফুল ও বাঁধাকপি ২০-৩০ টাকায়। শালগম ও পেঁপে ৩০-৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, ব্রোকলি ৪০-৫০ টাকা। তবে কিছু মৌসুমের বাইরে থাকা সবজির দাম এখনো বেশি, যেমন পটোল, করলা, ঢেঁড়স, ও টমেটো সবই ৭০-৮০ টাকায়। মিরপুরের এক কাঁচাবাজারের কথা হয় স্কুলশিক্ষিকা মুন্নি আক্তারের সঙ্গে, তিনি বলেন, ‘শীতকালে অল্প টাকায় অনেক বাজার করা যায় এবং সবজি খেতেও খুব সুস্বাদু।’ ডিম ও মুরগির দাম অনির্বাচিত থাকলেও তার গতিপ্রকৃতি অপরিবর্তিত। ডজন ডিমের দাম স্থিতিশীল ১০৫ থেকে ১১অ টাকা, ব্রয়লার মুরগির কেজি দাম ১৬০-১৭০ টাকা, আর সোনালি প্রজাতির মুরগি কিনে নেওয়া যায় ২৪০-২৮০ টাকায়। গরুর ও খাসির মাংসের দামের কোনও পরিবর্তন হয়নি।

