নওগাঁর বদলগাছীতে এখন বইছে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ, যার কারণে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে ৯.০ ডিগ্রি Celsius। পৌষ মাসের শুরু থেকেই এই অঞ্চলের তাপমাত্রা ১১ থেকে ১৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করলেও, শনিবার (৩ জানুয়ারি) সকালে সকাল ৯টায় এই অপ্রত্যাশিত শীতলতা সবচেয়ে বেশি অনুভূত হয়।
পৌষের মাঝামাঝি সময়ে জেঁকে বসেছে তীব্র শীত, সূর্যের দেখা মিলছে না বললেই চলে। ঘন কুয়াশা ও হিমেল হাওয়ার কারণে মানুষের জীবনযাত্রা কঠিন হয়ে পড়েছে। দিনবঙে ছোট-বড় যানবাহনের চালকরা হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করছেন। এই কনকনে ঠান্ডায় সবচেয়ে বেশি বিপাকায় পড়েছেন শ্রমজীবী ও নিম্ন আয়ের মানুষগুলো।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, কয়েকদিন ধরেই কুয়াশা ও ঠাণ্ডা বাতাস বইছে, যার ফলে শীতের অনুভূতি আরও জোরদার হয়েছে। তবে আজকের ঠাণ্ডা অন্য দিনগুলোর তুলনায় বেশি, যার কারণে অনেক মানুষ খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন।
বদলগাছী সদর উপজেলার চার্জার ভ্যানচালক রফিক মন্ডল বলেন, “গত কয়েক দিন ধরে আজকের মতো শীত বেশি নেই। ভ্যান চালাতে খুব কষ্ট হচ্ছে, হাত কাঁপাকাঁপি করে হ্যান্ডেল ধরতে পারছিনা। তবুও পেটের জন্য বাইরে আসতে হচ্ছে।”
শহরের বিভিন্ন সড়ক এখন জনশূন্য; প্রয়োজন ছাড়া কেউ বাইরে চোখে পড়ছে না।
বদলগাছী কৃষি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের কর্মকর্তা মিজানুর রহমান জানান, সর্বশেষ সকাল ৯টায় জেলার তাপমাত্রা ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড হয়েছে। এর আগে গতকাল এই মান ছিল ১১.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস, অর্থাৎ ২৪ ঘণ্টায় তাপমাত্রা কমেছে প্রায় ২.৮ ডিগ্রি। উত্তর দিক থেকে আসা হিমেল হাওয়ায় আশা করা হচ্ছে, শীতের এই প্রকোপ আরও বাড়তে পারে।
হিমেল হাওয়া ও ঘন কুয়াশার কারণে এই শীত আরও চরম আকারে দেখা দিতে পারে। তবে সকালেই সামান্য রোদ উঠলে জনমনে স্বস্তি ফিরে আসবে বলে স্থানীয়রা আশাবাদ প্রকাশ করেছেন।
এখনো মরুকূপে মিষ্টি থেকে এই শীতের প্রকোপ কাটিয়ে উঠবার চেষ্টা চালাচ্ছেন কৃষক ও খেটে খাওয়া মানুষরা। জানিয়েছেন, দ্রুত রোদ উঠলে শীতের কষ্ট কমবে বলে আশাবাদে দুলছে এলাকাবাসী।

