পবিত্র রমজান মাস এখনও এক মাসেরও বেশি দূরে, কিন্তু এর মধ্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামের পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে চিনির মূল্য রোজার আগে ইতিমধ্যেই বেড়ে গেছে, যা ক্রেতাদের জন্য চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাজারে বর্তমানে প্রতি কেজি চিনির দাম দাঁড়িয়েছে ১০৫ থেকে ১১০ টাকায়, যা গত সপ্তাহে ছিল ৯৫ থেকে ১০০ টাকায়। এই মূল্যবৃদ্ধির কারণে বেশ কয়েকটি দোকানে বিক্রেতারা সতর্কতা অবলম্বন করেছেন এবং অনেক বিক্রেতা চিনি বিক্রি বন্ধ করে দিয়েছেন বা পর্যাপ্ত পরিমাণে চিনি রাখা থেকে বিরত থাকছেন। কাজীপাড়া এলাকার মুদি দোকানি আরিফ হোসেন জানান, পাইকারি বাজারে চিনির দাম বেড়েছে এবং বর্তমানে প্রতি কেজি চিনি বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১০৫ টাকায়, যেখানে প্রতি প্যাকেটে লাভ ৪-৫ টাকা। তিনি বলেন, চিনির দাম আরও বাড়তে পারে বলে শঙ্কা থাকায় অনেক দোকানি কিছু চিনি জোগান বন্ধ করে দিয়েছেন। অন্যদিকে, বাজারে পেঁয়াজ এবং আলুর দাম কমে আসছে। নতুন আলু ও পেঁয়াজের ব্যাপক সরবরাহ বেড়েছে, ফলে এগুলো এখন কম দামে বিক্রি হচ্ছে। পেঁয়াজের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫৫ থেকে ৬০ টাকায়, যা কিছুদিন আগেও ৬৫ থেকে ৭০ টাকায় ছিল। ভারতীয় পেঁয়াজের দামও কমে ৬০ থেকে ৬৫ টাকায় এসেছে। একইভাবে, নতুন আলু এখন ১৫ থেকে ২০ টাকায় বিক্রি একটি। মিরপুরের পাইকপাড়ার বাজারে এক বিক্রেতা হেলাল বলেন, দেশের নতুন আলু ও পেঁয়াজের দাম আয়োজিত সরবরাহের কারণে কমে এসেছে। ক্রেতারা এখন নতুন আলু ও পেঁয়াজ কিনতে বেশি আগ্রহী। শীতকালীন সবজিগুলোর দামও বেশ ভালোভাবেই কমে গেছে। কেজিপ্রতি শিম বিক্রি হচ্ছে ৩০-৪৫ টাকায়, যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ৪০ থেকে ৫০ টাকায়।মূলা বিক্রি হচ্ছে ৩০-৩৫ টাকায়, বেগুনের দর নেমেছে ৪০-৬০ টাকায়, ফুলকপি ও বাঁধাকপি বিক্রি হচ্ছে ২০-৩০ টাকায়। শালগম, পেঁপে ও ব্রোকলি বিক্রি হচ্ছে যথাক্রমে ৩০-৪০ টাকা, ৪০-৫০ টাকা এবং ৪০-৫০ টাকা। কিছু মৌসুমের বাহিরের সবজির দাম এখন ৭০-৮০ টাকার মধ্যেও পৌঁছে গেছে। পটোল, করলা ও ঢেঁড়সের দামসঙ্গতভাবে একই দামে বিক্রি হচ্ছে। এ বাজারে টমেটোও সেই মূল্যে অপেক্ষাকৃত কম দামে বিক্রি হচ্ছে। ব্যাপারটি ফুটিয়ে তুলেছেন মিরপুর-১১ এর কাঁচাবাজারের স্কুলশিক্ষিকা মুন্নি আক্তার, যিনি বলেন, শীতের সময় সবজি কেনাকাটা সস্তায় সম্ভব। তিনি আরও জানান, টমেটো ছাড়া অন্য সব সবজির দাম এখন কম। ডিম ও মুরগির বাজারেও কোনো বড় পরিবর্তন হয়নি। প্রতি ডজন ডিমের দাম এখন ১০৫ থেকে ১১০ টাকা, ব্রয়লার মুরগির দাম কেজিতে ১৬০ থেকে ১৭০ টাকা, এবং সোনালি জাতের মুরগি কেজিতে পাওয়া যাচ্ছে ২৪০ থেকে ২৮০ টাকায়। গরু ও খাসির মাংসের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ক্রেতাদের জন্য স্বস্তি হলেও চিনির দ্রুত মূল্যবৃদ্ধির জন্য কিছু বিচলিত ক্রেতারা। মার্কেটের সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও দামের এই ওঠানামা ক্রেতাদের জন্য উদ্বেগজনক।

