ইরানে চলমান ৯ দিন ধরে চলা নতুন বিক্ষোভে প্রকাশ্যে সমর্থন জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি এই বিক্ষোভকে শান্তিপূর্ণ বলে উল্লেখ করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র খুব কাছ থেকে এই পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। একইসঙ্গে, যদি ইরান সরকার বলপ্রয়োগের মাধ্যমে এই বিক্ষোভ দমন করতে চায়, তবে যুক্তরাষ্ট্র কঠোর হামলার হুমকি দিচ্ছে।
রবিবার (৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় এয়ারফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প এই ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, ইরানে যা হচ্ছে, তা খুব কাছ থেকে নজরে রাখা হচ্ছে। যদি তারা আবার মানুষ হত্যা শুরু করে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রকে শক্তিশালী আঘাত করার জন্য প্রস্তুত থাকবো।
এটি ট্রাম্পের দ্বিতীয় হুমকি, এর আগে ১ জানুয়ারি নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে তিনি লিখেছিলেন, যদি ইরান গুলি করে বা সহিংসভাবে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের হত্যা করে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র তাদের রক্ষা করতে এগিয়ে আসবে।
যুক্তরাষ্ট্র এখন সম্পূর্ণ প্রস্তুত, এবং প্রয়োজন হলে দ্রুত ইরানে পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। উল্লেখ্য, ২৮ ডিসেম্বর তেহরানের খোলা বাজারে মার্কিন ডলার বিপরীতে রিয়ালের মান ইতিহাসের সর্বনিম্নে পতনের পর দেশজুড়ে বিক্ষোভ ও ধর্মঘট শুরু হয়। তারপর থেকে বলধরার মতো বিভিন্ন শহরে অব্যাহতভাবে বিক্ষোভ চলমান।
এক রিপোর্টে বলা হয়, ইরানের ২৬টি প্রদেশের ৭৮টি শহরে এই বিক্ষোভের খবর পাওয়া গেছে এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে এখনও পর্যন্ত ২০ জনের মৃত্যু হয়েছে।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনি এই বিক্ষোভকে ‘বিদেশি মদদপুষ্ট উসকানিদাতা’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে আরও কঠোর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, কিছু উত্তেজিত ও ভাড়াটে শত্রু ইসলাম ও ইরানের বিরুদ্ধে স্লোগান দিচ্ছে। প্রতিবাদ অবশ্যই বৈধ, কিন্তু দাঙ্গা ও প্রতিবাদ এক নয়। কর্মকর্তাদের উচিত, প্রতিবাদকারীদের সঙ্গে আলোচনা করা। তবে দাঙ্গা যুক্ত করতে চায় এমনদের সঙ্গে আলোচনা বেকার।
আজকের খবর / এমকে

