সীমানা পুনর্নির্ধারণ সংক্রান্ত আপিল বিভাগের রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশন (ইসি) আপাতত পাবনা-১ ও পাবনা-২ আসনের নির্বাচন স্থগিতের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গত ৫ জানুয়ারি আপিল বিভাগের ওই রায়ের অনুলিপি হাতে পাওয়ার পরই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সুপ্রিমকোর্টের পরবর্তী সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত এই দুই আসনে নির্বাচন কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।
নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ জানান, আমান শারীরিকভাবে পুরোপুরি স্থগিত না করে বলতে হয়, আপাতত নির্বাচন বন্ধ রাখা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ‘পুরোপুরি স্থগিত করা হয়নি, তবে আপাতত নির্বাচন স্থগিত রয়েছে। সুপ্রিমকোর্টের সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত এসব আসনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে না।’
এ বিষয়ে জানা যায়, গত বছরের ৪ সেপ্টেম্বর সংসদীয় আসন পুনর্বিন্যাস করে কমিশন সংশ্লিষ্ট গেজেট প্রকাশ করে। এই গেজেটে সাঁথিয়া উপজেলার পুরো এলাকা নিয়ে পাবনা-১, এবং সুজানগর ও বেড়া উপজেলা নিয়ে পাবনা-২ আসন নির্ধারণ করা হয়।
তবে এই গেজেটের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে বেড়া উপজেলার জহিরুল ইসলাম ও সাঁথিয়া উপজেলার আবু সাঈদ হাইকোর্টে রিট আবেদনের মাধ্যমে আপত্তি জানান। গত বছরের ১৭ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট রুল জারি করে, এরপর ১৮ ডিসেম্বর রুলের চূড়ান্ত শুনানিতে আদালত তা নথিভুক্ত ও অব্যাহত রাখে।
এর বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশন আপিল বিভাগে আবেদন করে, কিন্তু পরে তা প্রত্যাহার করে নেন। এরপর গত ২৪ ডিসেম্বর নতুন করে গেজেট প্রকাশ করে সংশোধন করা হয়। এতে সাঁথিয়া ও বেড়া উপজেলার নির্দিষ্ট এলাকা নিয়ে নতুন আসন নির্ধারণ করা হয়।
তবে এই সংশোধিত গেজেটের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে মামলা গড়ালে গত ৫ জানুয়ারি রায়ের মাধ্যমে ইসির সংশোধিত সীমানা কার্যকর থাকা স্থগিত হয়। আপিল বিভাগ বলেন, লিভ টু আপিলের শুনানির পরবর্তী ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত এই স্থগিতাদেশ বজায় থাকবে। এর প্রেক্ষিতে, ইসির গেজেটের কার্যকারিতা বিলুপ্ত হয় এবং কমিশনের সীমানা নির্ধারণের সিদ্ধান্ত স্থগিত থাকে।
উপায়জনিতভাবে, নির্বাচন ঘোষণা ও মনোনয়নপত্রের দায়ে এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করছে সচেতন মহল। জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা শাহেদ মোস্তফা বৃহস্পতিবার রাতে গণমাধ্যমকে বলেন, এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা পাননি, নির্দেশনা এলেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।
বিশ্লেষণে দেখা যায়, বাগেরহাট ও গাজীপুরের সীমানা সংক্রান্ত মামলায় আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে বলেছিল কমিশন। তবে, মনোনয়নপত্র দাখিলের সময় শেষের আগে গেজেট সংশোধন করে প্রকাশ করায় আইনি জটিলতা সৃষ্টি হয় এবং তা থেকে এই দুই আসনে নির্বাচন স্থগিতের পরিস্থিতি তৈরি হয়।

