গণভবনে অনুষ্ঠিত হয়েছে বিএনপি, জামায়াত ইসলামি ও জাতীয় পার্টির নেতাদের নিয়ে একটি বিশেষ স্মৃতি উৎসব, যাকে ডাকা হয় ‘জুলাই গণঅভ্যুত्थান স্মৃতি’। এই স্মৃতিকথা সংরক্ষণের জন্য নির্মিত এই জাদুঘরের চূড়ান্ত পর্যায়ের উন্নয়ন কাজের অগ্রগতি পরিদর্শন করেছেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) বিকেল ৩টায় তিনি জাদুঘরে পৌঁছান এবং এখানকার ইতিহাস ও স্মৃতি স্তম্ভগুলো ঘুরে দেখেন। এই স্মৃতি জাদুঘরটি ১৯৭১ সালের জুলাই মাসে সংঘটিত গণঅভ্যুত্থান ও অন্ধকার সময়ের প্রতীক হয়ে উঠেছে, যেখানে শহীদদের পোশাক, চিঠিপত্র, দলিলপত্র, পত্রিকার কাটিং, অডিও-ভিডিও প্রমাণাদি সুন্দরভাবে সংরক্ষিত রয়েছে। বিশেষ করে তাঁরাই দেখানো হয়েছে যেখানে দেশের মানুষ নৃশংসতার মুখে দাঁড়িয়ে যুদ্ধ করেছিলেন, সরকারের অত্যাচার আর শাসনের নির্মমতা বরিহাসে তুলে ধরা হয়েছে।
সেখানে উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ, জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান, জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামসহ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ নেতৃবৃন্দ। এ ছাড়াও অংশ নেন সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরওয়ার ফারুকী, আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল, গণপূর্ত উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জাহাঙ্গীর আলম, স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান, এসডিজি সমন্বয়ক লামিয়া মোর্শেদ, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত সচিব মো. নজরুল ইসলাম, এবং গুমের শিকার পরিবারের প্রতিনিধি ও সাহসী ছাত্রনেতারা।
জাদুঘরটি প্রদর্শনী দেয় যেখানে গুলির আওয়াজ, গুমের বিভীষিকা, যুদ্ধের অমোঘ চিত্র ও শহীদদের চিত্র রয়েছে। প্রফেসর ইউনূস সেখানে এক প্রামাণ্যচিত্র দেখেন, যেখানে ২৪ জুলাইয়ের দমন-পীড়ন, গুমের কড়াকড়ি ও গণহত্যার সময়ের চিত্র ফুটে ওঠে। এই প্রামাণ্যচিত্রটি নির্মাণ করেছে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়।
পরিদর্শন শেষে তিনি বলেন, ‘এই জাদুঘর এমন এক ঐতিহাসিক স্থান, যেখানে শহীদদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতা স্মরণ করা হয়। এই ধরনের জাদুঘর সম্ভবত পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল। এটি আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ন্যায়বিচার, দেশপ্রেম ও সাহসের শিক্ষা দেবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা চাই প্রতিটি নাগরিক এখানে এসে একটি দিন পার করতে। শিক্ষার্থীরা দল বেঁধে আসুক, যেন তারা বুঝতে পারে কেন এবং কিভাবে এই দেশের মানুষ নির্যাতিত হয়েছে। এই জাদুঘরের আয়নাঘরে বসে কেউ থাকুক, যাতে তারা ইতিহাসের সেই নির্মম দিনগুলো উপলব্ধি করতে পারে।’
প্রধান উপদেষ্টা কখনো যেন এই ধরনের বিভীষিকা আবার না ঘটে, এই কামনা ব্যক্ত করেন তিনি। তরুণ-তরুণীরা, ছাত্ররা এই নৃশংসতা ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছে, যা দেশের জন্য গর্বের বিষয়। সাধারণ মানুষও সাহসের সঙ্গে সরকারের ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে তাদের পাশে দাঁড়িয়েছে, যা আমাদের জন্য এক অনুপ্রেরণা।
সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরওয়ার ফারুকীসহ জাদুঘরের নির্মাণে নিযুক্ত সকলের труда ও পরিশ্রমের জন্য ধন্যবাদ জানান তিনি। ফারুকী জানান, মাত্র আট মাসের মধ্যে এই জাদুঘর অত্যন্ত প্রতিশ্রুতিশীল পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা অনেক ছেলেমেয়ের স্বেচ্ছাচারী পরিশ্রমের ফল। তিনি বললেন, আগামী কিছুদিনের মধ্যে আরও কিছু নতুন সেকশন সম্পূর্ণ হয়ে সবার জন্য উম্মুক্ত হবে, যা আমাদের দেশের অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যতের রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক চিন্তার কেন্দ্র হিসেবে কাজ করবে।
প্রফেসর ইউনূস জানান, এই জাদুঘর শুধু ইতিহাসের চিহ্ন বহন করেনা, এটি দেশের রাজনীতির আর্কাইভ হয়ে থাকবে। ভবিষ্যতে এটি শিক্ষা, গবেষণা ও শিল্পকলার গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে ভূমিকা রাখবে।

