বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশন (ইসি) আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্ধারিত সময়ের আগে কোনো ধরনের নির্বাচনি প্রচারণা চালানোর বিরুদ্ধে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছে। এই সিদ্ধান্তের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামি, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস-এই চারটি দলকে সতর্ক করা হয়।
ইসির তরফ থেকে জানা গেছে, সংশ্লিষ্ট এসব দলের প্রধানদের কাছে আনুষ্ঠানিক চিঠি মাধ্যমে এই নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে। চিঠিতে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, নির্ধারিত সময়ের আগে নির্বাচনি প্রচারণা অবৈধ এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ড চালালেই নির্বাচন কমিশনের কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।
চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, বিএনপি থেকে একটি লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে জানা গেছে, সাধারণ নির্বাচনের সময়সূচি অনুযায়ী ২১ জানুয়ারির আগে নির্বাচন প্রচারণা করা অবৈধ। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে, এই চার দল প্রকাশ্যে বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে ভোটের জন্য প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে, যা নির্বাচনী নিয়মবিধির পরিপন্থি।
এ বিষয়ে কমিশনের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে বা নির্ধারিত সময়ের আগে রাজনৈতিক দল বা প্রার্থী ভোটের প্রচারণা, পোস্টার, ব্যানার, সভা-সমাবেশ বা জনসংযোগমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে না। অ্যাডভোকেটরা জানিয়েছেন, এই নিয়মের লঙ্ঘন করলে নির্বাচনী আচরণ বিধিমালা অনুযায়ী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের অধিকার রয়েছে।
অপেক্ষাকৃত এ বছর নির্বাচন আসন্ন থাকলেও, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ইতোমধ্যেই মাঠে নেমে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরতে বিভিন্ন সভা, গণসংযোগ ও সাংগঠনিক কার্যক্রম চালাচ্ছে। তবে বিএনপি মনে করে, কিছু দল এই নির্দেশনা অমান্য করে আগে থেকে প্রচারণা চালিয়ে নির্বাচনী পরিবেশে অসাম্য সৃষ্টি করছে, যা সমান সুযোগের নীতির পরিপন্থি।
নির্বাচন কমিশনের একাধিক কর্মকর্তা বলেছেন, তারা নির্বাচনি মাঠে ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নিশ্চিত করতে সচেষ্ট। এজন্য দলগুলো যেন নির্ধারিত সময়ের বাইরে প্রচারণা চালাতে না পারে, সে জন্য তারা কঠোর অবস্থান গ্রহণ করবে।
ইসির সূত্র আরো জানায়, সতর্কতা সত্ত্বেও যদি কোনো দল আচরণবিধি লঙ্ঘন করে, তবে সংশ্লিষ্ট দলের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।
