রংপুরের পীরগাছা উপজেলায় পুলিশের হেফাজত থেকে জেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নাহিদ হাসান লিটন পলায়ন করলে এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। নাহিদসহ কয়েকজন হত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তারকৃত আসামি নিয়ে গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে থানাবাসী।
অপারেশনে অংশ নেওয়া একজন অফিসার নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, অভিযানে ৬ জন এসআই, ৪ জন এএসআই ও ২ জন কনস্টেবল কাজ করছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, গ্রেপ্তারের পর লিটনের হাতে হ্যান্ডকাফ পরানো হয়। কয়েক মিনিটের মধ্যেই পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় নারী-পুরুষ পুলিশের সঙ্গে বাগযুদ্ধ শুরু করলে পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয় এবং ওই সুযোগে লিটন বাড়ির পেছনের দিক দিয়ে পালিয়ে যান।
স্থানীয়দের দাবি, পালানোর সময় লিটনের শরীরে কোনো কাপড় ছিল না এবং তিনি হ্যান্ডকাফ পরিহিত অবস্থায়ই পালিয়ে গেছেন। অপরপক্ষে পুলিশ বলছে, লিটনের শরীরে শ্যাম্পু ও সাবান মাখানো ছিল এবং তিনি হাফপ্যান্ট পরেছিলেন। স্থানীয় এক যুবদল নেতা হ্যান্ডকাফ উদ্ধার করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বলেও জানা গেছে।
একজন প্রত্যক্ষদর্শী দম্পতি বলেন, মাগরিবের নামাজের পর পুলিশ লিটনের বাড়িতে গেলে কোলাহল বাড়ে। পুলিশ লিটনকে ধরে অবস্থায় ১০-১৫ জন নারী পুলিশের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়ান; একপর্যায়ে এক নারী পুলিশ সদস্যকে পিছন থেকে জড়িয়ে ধরেন, আরেকজন পুলিশের হাতে কামড় দিলে পরিস্থিতি হাতে বাইরে চলে যেতে পারে— তখনই লিটন পালিয়ে যান।
স্থানীয়রা—যেমন শাহ আলম—বলে লিটন বিবস্ত্র অবস্থায় পালিয়েছে। লিটনের বাবা আব্দুল হান্নান দাবি করেছেন, তার ছেলে ফুটবল খেলে বাড়ি এসে গোসল করছিল; তখনই পুলিশ গিয়ে গ্রেপ্তার করে। পরে নারীরা পুলিশের ঘিরে ধস্তাধস্তি করায় সে পালিয়ে গেছে। অন্যদিকে লিটনের চাচা ছফির উদ্দিন দাবি করেন, পুলিশের উপর জুতা ও ঝাড়ু দিয়ে আক্রমণ করে লিটনকে হ্যান্ডকাফসহ ছাড়া হয়; পরে যুবদল নেতা জাহাঙ্গীরের মাধ্যমে হ্যান্ডকাফ ফেরত দেওয়া হয়েছে এবং ঘটনাকালে ব্যবহৃত ওয়াকি-টকি নুর ইসলামের কাছে ফেরত পাঠানো ও ভিডিও সংরক্ষণ করা হয়েছে বলেও দাবি উঠেছে।
জাহাঙ্গীর আলম হ্যান্ডকাফ নিজে ফেরত দেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন, তবে তিনি বলেন, লিটনকে পুলিশের হাত থেকে ছিনিয়ে নেওয়ার বিষয়টি তিনি শুনেছেন। অবসরপ্রাপ্ত অডিটর শামসুল আলম ও স্থানীয় স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক লুৎফর রহমানও গ্রেপ্তারের সময় পুলিশের ওপর স্থানীয়দের আক্রমণের কথা উল্লেখ করেন এবং বলছেন, ঘটনার সূত্র ধরে পুলিশ আটক ছাড়তে বাধ্য হয়।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকাবাসী পুলিশের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন—কিভাবে প্রায় ১২ জন পুলিশ সদস্যের কাছ থেকে একজন হ্যান্ডকাফ পরিহিত আসামি পালাতে পারে। পীরগাছা থানার তদন্ত কর্মকর্তা আমিরুল ইসলাম লিটনের পালানোর বিষয়টি স্বীকার করেছেন, কিন্তু হ্যান্ডকাফ পরিহিত থাকার দাবিটি অস্বীকার করেছেন। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম খন্দকার মহিব্বুল ইসলাম বলেছেন, হ্যান্ডকাফ সম্পর্কিত তথ্য ‘‘সম্পূর্ণ গুজব’’ এবং তারা বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন। রংপুরের পুলিশ সুপার মারুফাত হুসাইনও বলেন, তিনি ঘটনা সম্পর্কে জানেন না, খোঁজ নিয়ে দেখছেন।
ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে বিতর্ক ও প্রশ্ন তোলায় প্রশাসন ও পুলিশের তরফ থেকে তদন্ত চালিয়ে সত্যতা প্রতিষ্ঠা করতে হবে—এটাই এখন এলাকাবাসীর আশা।

