সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রাচীন ও গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় উৎসব হলো শ্রী শ্রী সরস্বতী পূজা। এই পবিত্র দিনটি মূলত বিদ্যা, সৃজনশীলতা ও সংগীতের দেবী সরস্বতীর আরাধনায় উৎসর্গিত। ধর্মীয় রীতিনীতির অনুসারে, মাঘ মাসের শুক্লা পঞ্চমী তিথিতে শুভ্র রাজহাঁসে চড়ে দেবী সরস্বতী পৃথিবীতে আগমন করেন। এই বিশেষ দিনে অসংখ্য ভক্ত এই দেবীর চরণে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে থাকেন, যা জ্ঞানের আলোকের হাতে নিজেকে আলোকিত করে তুলতে চায়। সকাল থেকে শুরু হয় নানা ধরনের ধর্মীয় অনুষ্ঠান এবং ভক্তদের নিবেদিত প্রার্থনা। পঞ্চমী তিথিতে সরস্বতীর পুজায় অংশ নেন অসংখ্য মানুষ, যারা অজ্ঞতার অন্ধকার দূর করে বিদ্যার আলোর ক্ষিতিজে আত্মনিভৃত হন। পূজার দিন দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে, মন্দিরে এবং বাড়িতে সরস্বতী পূজার বিশেষ আয়োজন করা হয়। মূলত মোদ্দা উদ্দেশ্য হলো, বিদ্যা ও জ্ঞানের মাধ্যমে অন্ধকারের সন্ধান থেকে মুক্তি লাভ। অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে ভক্তরা সরস্বতীর চরণে অঞ্জলি অর্পণ করেন, শিশুদের হাতে বই ও লেখার সরঞ্জাম বিতরণ করা হয়। ঢাকা শহরের অন্যতম বড়পূজা আয়োজনের মধ্যে রয়েছে ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে সকাল ১০টায় অনুষ্ঠিত হওয়া পূজা, যেখানে ধর্মপ্রাণ মানুষ অংশ নেন। একই সঙ্গে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলের বিভিন্ন বিভাগ ও ইন্সটিটিউটসহ মোট ৭৬টি মণ্ডপে সরস্বতী পূজার নানা আয়োজন সম্পন্ন হয়। এসব মণ্ডপের মধ্যে রয়েছে মূল পূজা, পুষ্পাঞ্জলি, প্রসাদ বিতরণ, পাশাপাশি অতিথি আপ্যায়ন। জগন্নাথ হলের পুরো এলাকা সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে সুরক্ষিত থাকবে এবং প্রবেশদ্বারে মেটাল ডিটেক্টর ব্যবহৃত হবে। এলাকাজুড়ে শিশু-কিশোরদের জন্য বিভিন্ন রাইড, খেলনা, এবং খাবারের স্টল বসানো হয়েছে। এ উৎসবের মাধ্যমে সর্বত্র বিদ্যার আলো ছড়িয়ে পড়বে, অন্ধকার কাটিয়ে নতুন আলো সৃষ্টি হবে—এটাই সকলের মূল প্রার্থনা।

