রাজধানীর নয়াপল্টনে অবস্থিত শারমিন একাডেমিতে শিশু নির্যাতনের ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত ও স্কুলের ব্যবস্থাপক পবিত্র কুমার বড়ুয়াকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার রাতে মিরপুর থেকে তাকে অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ নিশ্চিত করেছে যে, এ ঘটনার মূল আসামি হিসেবে তার নাম রয়েছে। পাশাপাশি আরেকজন আসামি শারমিন জাহানকে গ্রেপ্তারে পৃথক অভিযান চালানো হচ্ছে।
এর আগে, পল্টন থানায় শিশু নির্যাতনের একটি মামলা হয়, যেখানে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে সোশ্যাল মিডিয়ায়। ভিডিওতে দেখা যায়, স্কুলের পোশাক পরা এক শিশুকে টেনেহিঁচড়ে অফিস কক্ষে নিয়ে যেতে দেখা যায়, যেখানে তাকে মারধর করা হয়। এক নারী সেখানে শিশুটিকে চড় মারছেন, এবং ভূমিতে থাকা একজন পুরুষ শিশুটির গলা চেপে ধরা ও মুখ চেপে ধরার চেষ্টা করেন। শিশুটি ভয়ে কেঁদে ওঠে। আরেকজন ব্যক্তির উপস্থিতিতে তার মুখে স্ট্যাপলার মুছতে দেখা যায়।
ভিডিওটি শেয়ার হওয়ার পর জানা যায়, এটি রাজধানীর পল্টনের শারমিন একাডেমির ঘটনাস্থল থেকে তোলা। ওই নারী হলো স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা প্রধান শিক্ষক শারমিন জাহান এবং অভিযুক্ত পুরুষটি হলো স্কুলের ব্যবস্থাপক পবিত্র কুমার।
ঘটনাটির উপরে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়, এবং গতকাল পল্টন থানায় শিশুর মা বাদী হয়ে একটি মামলা করেন। মামলা অনুযায়ী, শিশু অধিকার আইনের অপরাধে পবিত্র কুমার ও শারমিন জাহানকে আসামি করে অভিযোগ দায়ের করা হয়। বর্তমানে স্কুলটি বন্ধ রয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, এই নির্যাতনের ঘটনা ঘটে ১৮ জানুয়ারি দুপুর ১টার দিকে। চার মিনিট ১৩ সেকেন্ডের ওই ভিডিও ব্যাপক ভাইরাল হয়ে গেছে, এবং বিভিন্ন মানুষ এর জন্য গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

