জামায়াতে ইসলামী সরকার গঠন করলে উত্তরাঞ্চলের নদীগুলোকে পুনরুজ্জীবিত করার পরিকল্পনা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি শনিবার (২৪ জানুয়ারি) সকালেই গাইবান্ধার পলাশবাড়ির এস এম পাইলট উচ্চবিদ্যালয়ে এক নির্বাচনী জনসভায় এই প্রতিশ্রুতি দেন।
নদীকে জীবনরক্ত比 আখ্যায়িত করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দীর্ঘ সময়ের অবহেলা কেবল পরিবেশকেই ক্ষতিগ্রস্ত করেনি, বরং উত্তরাঞ্চলের মানুষের অর্থনীতি ও সামাজিক জীবনেও ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। নদীর জীবন ফিরে এলে উত্তরবঙ্গের সাধারণ জীবনও সচল হবে, ইনশাআল্লাহ।
তিনি বলেন, ‘‘আপনাদের পাশ দিয়ে যে নদীগুলো বয়ে গেছে, তা আল্লাহর নিয়ামত। কিন্তু গত ৫৪ বছরে সরকারের অবহেলায় এগুলো রক্ষা করা হয়নি। একসময় যেখানে জাহাজ চলত, আজ সেখানে সাধারণ নৌকাও চলতে পারছে না। নদী এখন যেন মরুভূমির কঙ্কালের মতো হয়ে গেছে।’’
নদীগুলো পুনরুজ্জীবিত করার পরিকল্পনার কথা জানিয়ে জামায়াতের আমির বলেন, ‘‘মহান আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে আমরা আপনাদের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি—যদি জনগণ আমাদেরকে ক্ষমতায় আনেন, প্রথমে উত্তরবঙ্গের মৃত নদীগুলোকে পুনরুজ্জীবিত করব। তিস্তা, ধরলা, করতোয়া এবং ব্রহ্মপুত্র—এই চার নদীর অবস্থা বিশেষভাবে দেখভাল করা হবে।’’
ডা. শফিকুর রহমান উত্তরবঙ্গকে কৃষিভিত্তিক সমৃদ্ধ অঞ্চলে রূপান্তরের পরিকল্পনার কথাও জানান। তিনি বলেন, উত্তরাঞ্চলের মানুষ অতিরিক্ত কোনো দানাদার বিলাসিতা চায় না; তারা পরিশ্রমী, সরল, অল্পতেই সন্তুষ্ট। কিন্তু এখন মাঠে আগের মতো ফলন হচ্ছে না; সার ব্যবহার করেও জমির উর্বরতা কমে গেছে। এর প্রধান কারণ হিসেবে তিনি নদী ও মিঠা পানির ঘাটতি উল্লেখ করেন।
নদী ও জলসম্পদ উন্নয়নকে তিনি দেশের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের সঙ্গে জড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘‘আমরা কোনো আধিপত্য বা কখনো অন্যের হুকুম মেনে চলি না। বিশ্বের সমস্ত সভ্য দেশ ও প্রতিবেশীর সঙ্গে বন্ধুত্ব চাই; কোনো ক্ষমতা আমাদের উপর দখল বা নজরদারি করুক—সেটা আমরা কখনো চাই না।’’ তিনি ৫৪ বছরের শাসনব্যবস্থাকে দেশের জন্য ক্ষতিকর ও ফ্যাসিবাদী অভিজ্ঞতা হিসেবে আখ্যায়িত করেন।
জনগণকে মৌলিক পরিবর্তনের আহ্বান জানিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘‘এটা পরিবর্তনের সময়; আপনাদের প্রতিটি কণ্ঠস্বর দরকার। আগামী ১২ তারিখে অনুষ্ঠিতব্য গণভোট এবং পরে সাধারণ নির্বাচনে অংশ নিয়ে দেশকে নতুন পথে নেওয়া হবে। গণভোট সফল হলে সাধারণ নির্বাচনও সফল হবে—এই জন্যই আপনাদের গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বলতে হবে।’’
তিনি শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, জুলাইয়ের শহীদদের সম্মান জানাতে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বলা অপরিহার্য। তিনি আবু সাঈদকে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরে বলেন, ‘‘আবু সাঈদ পুরো দেশকে উদ্দীপ্ত করেছেন; তাঁর জীবনদানের আদর্শে আমাদেরও দেশ বদলের পথে এগোতে হবে।’’
সমাবেশের শেষ অংশে ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, ‘‘আমরা চাই সারা দেশে জনগণ সচেতন হোক। নদী, জমি, পানি ও কৃষি উন্নয়নের মাধ্যমে উত্তরবঙ্গকে সমৃদ্ধ করা হবে। আপনারা আমাদের সমর্থন দিলে আমরা দেশকে উন্নয়নের পথে এগিয়ে নেব।’’
সূত্র: আজকালের খবর/ এমকে

