একজ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তা বলেছেন, যে কোনো ধরনের সামরিক হামলাকে তারা সর্বাত্মক যুদ্ধ হিসেবে বিবেচনা করবে। তিনি এই মন্তব্য করেন এমন সময় যখন আগামী কয়েক দিনের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিমানবাহী রণতরী বহর ও অন্যান্য সামরিক সরঞ্জাম মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই কর্মকর্তা বলেন, তারা আশা করে যে এসব পদক্ষেপ কোনো বাস্তব সংঘাতের প্রচেষ্টা নয়। তবু সেনাবাহিনী সর্বোচ্চ খারাপ পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত রয়েছে, তাই দেশজুড়ে সতর্কতা বাড়ানো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ‘‘এবার যে কোনো হামলা—সীমিত হোক বা বিস্তৃত, সার্জিক্যাল হোক বা কাইনেটিক (প্রথাগত kinetic হামলা)—তারা যাই বলুক না কেন, আমরা সেটিকে আমাদের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক যুদ্ধ হিসেবে গ্রহণ করব এবং সর্বোচ্চ কঠোরতায় জবাব দেব।’’
এর আগে বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, একটি নৌবহর ইরানের দিকে যাচ্ছে, যদিও সেটি ব্যবহার করার প্রয়োজন পড়বে না বলার আশা প্রকাশ করেছেন। একই সঙ্গে তিনি ইরানকে সতর্ক করে বলেন, বিক্ষোভকারীদের হত্যা বা পারমাণবিক কর্মসূচি পুনরায় চালু করা হলে ফলাফল ভোগ করতে হবে।
ইরানি কর্মকর্তাটি বলেন, যদি আমেরিকানরা ইরানের সার্বভৌমত্ব বা ভূখণ্ডগত অখণ্ডতা লঙ্ঘন করে, তবে ইরান জবাব দেবে—কিন্তু কেমন জবাব হবে তা তিনি নির্দিষ্ট করেননি। তিনি যোগ করেন, ‘‘যে দেশটি যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে অব্যাহত সামরিক হুমকির মুখে আছে, তাদের আর কোনো বিকল্প নেই।’’
বিশ্লেষকরা বলেন, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে উত্তেজনা বাড়লে যুক্তরাষ্ট্র অতিরিক্ত বাহিনী মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন করে থাকে, যা সাধারণত প্রতিরক্ষামূলক কারণে করা হয়। তবে গত বছরের জুনে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ওপর সম্ভাব্য আক্রমণের তাদের প্রস্তুতির আগে যুক্তরাষ্ট্র সেখানে বড় সামরিক সমাবেশ করেছিল।
সূত্র: রয়টার্স
আজকালের খবর/ এমকে

