ব্যাংক খাতের সংকট মোকাবিলা করতে সরকারের কাছে হাজার হাজার কোটি টাকার নোট ছাপানো প্রয়োজন হয়েছে বলে জানিয়েছেন পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ।
বুধবার (২৮ জানুয়ারি) ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) আয়োজিত ‘অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও পরবর্তী সরকারের চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এই তথ্য তুলে ধরেন।
ড. ওয়াহিদউদ্দিন বলেন, কিছু ব্যাংক মালিক দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার কারণে তাদের কাছ থেকে শেয়ারের মাধ্যমে ক্ষতিপূরণ আদায় করা সম্ভব হয়নি। একই সময়ে সরকারের কাছে প্রায় ৫ বিলিয়ন ডলারের জ্বালানি আমদানির বকেয়াও পরিশোধ করতে হয়েছে, যা আর্থিক চাপ বাড়িয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ব্যাংক খাত থেকে অনিয়ম ও অর্থপাচার হয়েছে, বন্ধ থাকা কারখানাগুলোতে মাসের পর মাস শ্রমিকদের মজুরি দিতে হয়েছে—এসব অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক কারণ মিলিয়ে সরকারকে বড় ধরনের অদৃশ্য ক্ষতিপূরণ বহন করতে হয়েছে।
পরিকল্পনা উপদেষ্টা বলেন, বর্তমান করাসমূহ মূলত সরকারের চলমান পরিচালনখরচ মেটাতে খরচ হচ্ছে; উন্নয়নমূলক কাজ ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ন খাতগুলি চালাতে দেশে ও বিদেশ থেকে নেওয়া ঋণের ওপর নির্ভরশীলতা বেড়েছে। বিদেশি ঋণের একটি ছোট অংশ শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে ব্যবহার হলেও বেশিরভাগ অর্থ বিদেশি পরামর্শকদের পেছনে ব্যয় হয়ে যাচ্ছে—এ কারণেই ঝুঁকিপূর্ণ কিছু প্রকল্প বাদ দেওয়া হয়েছে, নতুবা আমরা ঋণের ফাঁদে ফসকে যেতে পারি।
সুদের হার ও মূল্যস্ফীতিকে নিয়েও তিনি মন্তব্য করেন, আগে যেখানে সুদ বাড়িয়ে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের ধারণা ছিল, এখন সেই কঠোর নীতি আবশ্যক নয়। নীতি সুদের হার ১০ শতাংশে রাখতে হবে বা মূল্যস্ফীতি ৭ শতাংশে নামতেই হবে—এরকম কোনো আনুষ্ঠানিক বাধ্যবাধকতা নেই। মূল্যস্ফীতি প্রত্যাশা অনুযায়ী যতটা কমার কথা ছিল, তা হয়নি, তবু ঝুঁকিটা এখন নিম্নমুখী।
ড. ওয়াহিদউদ্দিন সতর্ক করে বলেন, দেশের অর্থনীতি এখন এক নতুন বাস্তবতায় পৌঁছেছে; আগের অবস্থায় পুরোপুরি ফিরে যাওয়া সম্ভব নয়। এই বাস্তবতা বিবেচনায় রেখে নীতি নির্ধারণ ও অর্থনৈতিক পরিকল্পনা তৈরিতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন প্রয়োজন।
আজকের খবর/বিএস

