যাত্রীসেবার মান উন্নয়নের লক্ষ্যে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) সকাল ১০টায় বিমানবন্দরের ডিপার্চার লাউঞ্জে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে যাত্রী, সাংবাদিক, এয়ারলাইন প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন স্টেকহোল্ডার যোগ দেন এবং সরাসরি মতামত, পরামর্শ ও অভিযোগ প্রকাশ করেন।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে গত ০২ জুলাই ২০২৫ তারিখে গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মাসিক ভিত্তিতে গণশুনানি আয়োজনের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) এ অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করে। মূল উদ্দেশ্য ছিল যাত্রীদের কাছ থেকে সরাসরি ফিডব্যাক নিয়ে সেবা মান উন্নয়ন, সেবাদান সংস্থাসমূহের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং প্রতিষ্ঠাগুলোর মধ্যে কার্যকর সমন্বয় গড়ে তোলা।
গণশুনানিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাননীয় অতিরিক্ত সচিব ও বেবিচকের সদস্য (প্রশাসন) এস এম লাবলুর রহমান। বিশেষ অতিথিদের মধ্যে ছিলেন বেবিচকের সদস্য (এটিএম) এয়ার কমডোর মো. নূর-ই-আলম, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. নুরুল হুদা এবং বেবিচকের পরিচালক (সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা) ও উপসচিব জনাব সানিউল ফেরদৌস। অনুষ্ঠানটির সভাপতিত্ব করেন কক্সবাজার বিমানবন্দরের পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মোঃ গোলাম মোর্তজা হোসেন।
সেশনগুলোতে যাত্রীসেবার মানোন্নয়ন, ফ্লাইট সময়সূচি ব্যবস্থাপনা, অভিযোগ নিষ্পত্তি প্রক্রিয়ার সহজিকরণ ও তথ্যপ্রাপ্তিতে স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণসহ নানাবিধ বাস্তব সমস্যা আলোচনা করা হয়। তার সঙ্গে বিমানবন্দর নিরাপত্তা, যাত্রী প্রবেশ ও বহির্গমন প্রক্রিয়া, ব্যাগেজ হ্যান্ডলিং ও চেক-ইন কাউন্টার ব্যবস্থাপনার মানোন্নয়ন, রানওয়ে ও এপ্রোন ব্যবস্থাপনা, ফায়ার ও রেসকিউ প্রস্তুতি ও জরুরি অবস্থায় সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
অতিথি ও যাত্রীরা বিমানবন্দরের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, শৌচাগারের মান, ওয়েটিং লাউঞ্জ, খাবার ও পানির মূল্য ও গুণগত মান, পার্কিং সুবিধা এবং তথ্য প্রদর্শন ব্যবস্থার আধুনিকায়নের প্রয়োজনীয়তা জোর দিয়ে বলেন। এয়ারলাইন্স প্রতিনিধিরা ফ্লাইট বাতিল বা বিলম্বের ক্ষেত্রে আগেভাগে যাত্রীকে জানিয়ে দেওয়া, গ্রাহকসেবা ডেস্কের কার্যকারিতা বৃদ্ধি এবং অ্যাপ-ভিত্তিক বা অন্যান্য ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সেবার অ্যাকসেস সহজ করার গুরুত্ব তুলে ধরেন।
সভায় অংশগ্রহণকারীরা স্টেকহোল্ডারদের মধ্যে সমন্বয় জোরদার করার, অভিযোগ ব্যবস্থাপনা সেলকে আরও সক্রিয় করার এবং সংশ্লিষ্ট জনবলকে প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষতা বৃদ্ধি করার অনুরোধ করেন। এছাড়া পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ গ্রহণ, ভবিষ্যৎ অবকাঠামো উন্নয়ন ও কক্সবাজার বিমানবন্দরকে আঞ্চলিক একটি আন্তর্জাতিক এভিয়েশন হাব হিসেবে গড়ার সম্ভাব্যতা নিয়ে গঠনমূলক মতবিনিময় করা হয়।
আয়োজক পক্ষ উপস্থিত যাত্রীদের প্রদত্ত মতামত ও সুপারিশের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিকভাবে সমাধানযোগ্য বিষয়গুলো দ্রুত বাস্তবায়নের আশ্বাস দেন। দীর্ঘমেয়াদি ও নীতিনির্ধারণমূলক বিষয়গুলো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি ebenfalls ব্যক্ত করা হয়। উপস্থিতরা আশা করেন যে এই ধরনের সরাসরি গণশুনানি বিমানবন্দর ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সেবার মান উভয়ই উন্নত করতে বড় ভূমিকা রাখবে।
আজকের খবর/বিএস

