বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দাঁড়িপাল্লা মার্কা হলো দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক। শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারি ফেনী জেলা জামায়াতে ইসলামীর আয়োজনে অনুষ্ঠিত এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন। প্রধান অতিথির বক্তৃতায় ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক নেতৃত্বের পরিবর্তন প্রসঙ্গে, জামায়াত এমন কোনো পদ্ধতি সমর্থন করে না যেখানে রাজা বা মন্ত্রী হয় শুধুমাত্র পরিবারের সদস্যরা। বরং দলটি চায় একটি এমন রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরি হোক যেখানে একজন সাধারণ রিকশাচালকের সন্তানও দেশের প্রধান হনার স্বপ্ন দেখাতে পারে। তিনি আরও বলেন, দুর্নীতিকে পাঁচবার চ্যাম্পিয়ন করার মতো অখণ্ড রাজনীতিকে দলটি চায় না। বেকারত্ব নিরসনে জামায়াতের স্পষ্ট অবস্থান হলো, তারা বেকার ভাতা দেয় না; বরং প্রত্যেক যুবক-যুবতীর জন্য মর্যাদাপূর্ণ কর্মস্থল ও কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে চায়। ফেনী নদী ও আঞ্চলিক সমস্যা নিয়ে কথা বলার সময় তিনি উল্লেখ করেন, আবরার ফাহাদকে প্রাণ দিতে হয়েছে আঘাতবাজ রাজনীতির কারণে। জামায়াত ক্ষমতায় গেলে ফেনী বাঁধের বিষয়ে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাওয়া হবে। তিনি বলেন, জামায়াত দেশের স্বার্থে অন্যদেশগুলোর প্রতি শ্রদ্ধাশীল, তবে সর্বপ্রথম দেশের স্বার্থই গুরুত্বপূর্ণ। উন্নয়নের পরিকল্পনা তুলে ধরে তিনি আশ্বাস দেন, দেশের ৬৪ জেলার কোনোটিই মেডিকেল কলেজ থেকে বঞ্চিত হবে না। এছাড়া, ফেনীতে নির্মাণ করা হবে আন্তর্জাতিক মানের স্টেডিয়াম এবং সব সমস্যা নিষ্পত্তিতে ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠা করা হবে। নারীদের অধিকার ও ধর্মীয় অপপ্রচার সম্পর্কে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, অনেকে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে যে জামায়াত ক্ষমতায় এলে মা-বোনদের বাইরে বের হওয়া বন্ধ করে দেওয়া হবে, তবে বর্তমানে মা-বোনরা পরিবর্তনশীল বাংলাদেশের দিকে তাকিয়ে রয়েছে। কওমী আলেমদের বিষয়ে অপপ্রচারকে তিনি ‘জঘন্য মিথ্যাচার’ আখ্যা দিয়ে বলেন, কওমী আলেমরা তাদের হৃদয়ের স্পন্দন। সবশেষে তিনি আগামী ১২ তারিখের গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটেয এবং নির্বাচনে দাঁড়িপাল্লা মার্কায় ভোট দেওয়ার জন্য সবাইকে আহ্বান জানান।

