ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, আকাশপথ ও টেকসই প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভারত নিজেকে বিশ্ব নেতৃত্বের জন্য প্রস্তুত করছে। তিনি এই ঘোষণা করেছেন উইংস ইন্ডিয়া ২০২৬ এভিয়েশন সামিটে ভার্চুয়ালি বক্তব্য দেওয়ার সময়, সংবাদ সংস্থা এনডিটিভি জানিয়েছে।
মোদির বক্তব্য অনুযায়ী, সরকার ২০৪৭ সালের মধ্যে দেশজুড়ে ৪০০টিরও বেশি বিমানবন্দর গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়েছে। আকাশপথকে দেশের প্রতিটি নাগরিকের জন্য সহজ ও সাশ্রয়ী করে তোলা এই উদ্দেশ্যের মূল অংশ।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিমানযাত্রা এখন আর কেবল নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর সুবিধা নয়—এটি সব মানুষের উপযোগী করা হচ্ছে। তাই টিয়ার-২ ও টিয়ার-৩ শহরে বিমানবন্দর গড়ে সেগুলোকে কর্মকৌশলে যুক্ত করা হচ্ছে, যাতে প্রতিটি অঞ্চলের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ বাড়ে।
তিনি আরও জানান, ২০১৪ সালে দেশে মোট বিমানবন্দর ছিল মাত্র ৭০টি; এখন তা ১৬০টির বেশি হয়ে গেছে। সরকারের হিসেব অনুযায়ী চলমান প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে ২০৪৭ সালের মধ্যে এই সংখ্যা ৪০০ ছাড়িয়ে যাবে এবং একটি ব্যাপক বিমান যোগাযোগ নেটওয়ার্ক গড়ে উঠবে।
সরকার ইতোমধ্যেই ১০০টিরও বেশি এয়ারড্রোম সক্রিয় করেছে এবং সাধারণ মানুষের জন্য সাশ্রয়ী ভাড়ায় বিমানযাত্রার বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে—যা আঞ্চলিক ও স্বল্পমূল্যের বিমান সংযোগ আরও শক্তিশালী করবে।
মোদিই বলেছে, ভারত ক্রমে ‘গ্লোবাল সাউথ’-কে বিশ্বের অন্যান্য অংশের সঙ্গে যুক্ত করার একটি প্রধান এভিয়েশন হাবে পরিণত হচ্ছে। একই সঙ্গে পরিবেশ রক্ষায় টেকসই এভিয়েশন ফুয়েল তৈরিতে দেশ নিজেকে প্রস্তুত করছে।
উন্নত প্রযুক্তির দিকে অগ্রযাত্রার কথাও তুলে ধরে তিনি বলেন, ভারতে বিমানের যন্ত্রাংশ উৎপাদন ও সরবরাহে বড় ভূমিকা নিতে শুরু করেছে। দেশেই সামরিক ও পরিবহন বিমান তৈরির কাজ চলছে এবং বেসামরিক বিমান উৎপাদনেও অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে। মোদির মতে, ভারতের ভৌগোলিক অবস্থান, শক্তিশালী অভ্যন্তরীণ ফিডার নেটওয়ার্ক ও ভবিষ্যতে বহর সম্প্রসারণ—এই সব মিলিয়ে দেশকে বড় সুবিধা দিচ্ছে।
এনডিটিভির প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, এসব পরিকল্পনা ও প্রকল্পের পরবর্তী ধাপগুলোও বাস্তবায়নের পথে রয়েছে, যা দেশের আঞ্চলিক সংযোগ ও সাশ্রয়ী বিমানভ্রমণ আরও সম্প্রসারণে ভূমিকা রাখবে।
(সূত্র: এনডিটিভি) আজকালের খবর/বিএস

