মিয়ানমারের জাতীয় নির্বাচনের সময় দেশটির বিমানবাহিনী বিভিন্ন এলাকায় বেসামরিক ও প্রতিরোধ গোষ্ঠীর ওপর বিমান অভিযান চালিয়েছে। এসব হামলায় আইনিভাবে প্রমাণিত সূত্রে কমপক্ষে ১৭০ জন প্রাণ হারিয়েছেন, নিহতদের মধ্যে কয়েকজন নির্বাচনি প্রতিওন্ধ্যও রয়েছেন বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের মানবাধিকার হাইকমিশন।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে হাইকমিশন বলেছে, অভ্যুত্থানের পর প্রায় পাঁচ বছর পর ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে সামরিক শাসকরা নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে। ওই তফসিল অনুযায়ী ভোটগ্রহণ তিন দফায় ২৮ ডিসেম্বর থেকে শুরু করে ২৫ জানুয়ারি পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয়।
তবে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে যে বহু স্থানে ‘বহুদলীয়, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য’ পরিবেশ ন থাকার কারণে ১২১টি আসনে ভোটগ্রহণ হয়নি। চূড়ান্ত ফলাফল অনুযায়ী সেনা সমর্থিত দল ইউনিয়ন অ্যান্ড সলিডারিটি পার্টি (ইউএসডিপি) নির্বাচনে বিজয়ী হয়েছে।
হাইকমিশন বলছে, নির্ভরযোগ্য সূত্রের ভিত্তিতে জানানো হয়েছে যে ২৮ ডিসেম্বর থেকে ২৫ জানুয়ারি পর্যন্ত বিদ্রোহী অধ্যুষিত এলাকায় অন্তত ৫০৮টি বিমান অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এসব অভিযানে কমপক্ষে ১৭০ জন নিহত হয়েছেন এবং নিহতদের মধ্যে কয়েকজন প্রার্থীও আছেন।
হাইকমিশনের মিয়ানমার শাখার প্রধান জেমস রোডেহ্যাভার বলেন, ডিসেম্বরের মাঝামাঝি থেকেই বিমান অভিযান তীব্রভাবে শুরু হয় এবং ২৫ জানুয়ারি পর্যন্ত তা বজায় ছিল। তিনি জানিয়েছেন, এই হামলায় বেসামরিক বসতি এবং নির্বাচনী কার্যক্রমকে লক্ষ্যমাত্রা করা হয়েছে, ফলে সাধারণ মানুষ ও প্রার্থীদের জীবন-নিরাপত্তা বড় ধরণের ঝুঁকিতে পড়ে।
জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের প্রধান ভলকার টুর্ক ইতোমধ্যে মিয়ানমারের নির্বাচনের ওপর তীব্র সমালোচনা করে এটিকে ‘ভুয়া ও সামরিক সাজানো নাটক’ বলে অভিহিত করেছেন। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা ও অধিকারকর্মীরা উদ্বেগ প্রকাশ করছেন যে এই পরিস্থিতি দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ও জন নিরাপত্তাকে আরও ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরও তদন্ত ও হিসেব-নিকেশের দাবি উঠছে, যাতে নিহতদের সংখ্যা ও হামলার বিস্তারিত পরিস্থিতি নির্ধারণ করা যায় এবং দায়ীদের কাছে জবাবদিহি নিশ্চিত করা সম্ভব হয়।

