ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েল ও সৌদি আরবকে কয়েক বিলিয়ন ডলারের উন্নত অস্ত্র সরবরাহ করার অনুমোদন দিয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের ঘোষণায় এ চুক্তিগুলোকে অঞ্চলীয় নিরাপত্তা ও মিত্রদের প্রতিরোধ ক্ষমতা জোরদারের অংশ হিসেবে দেখানো হয়েছে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর শুক্রবার জানিয়েছে, ইসরায়েলের কাছে অনুমোদিত সরবরাহের মধ্যে রয়েছে ৩.৮ বিলিয়ন ডলারের মূল্যের ৩০টি অ্যাপাচি আক্রমণাত্মক হেলিকপ্টার। এ ছাড়া ইসরায়েলের জন্য অনুমোদিত হয়েছে প্রায় ১.৮ বিলিয়ন ডলারের হালকা কৌশলগত যানবাহনও। দফতরটি বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলের নিরাপত্তার প্রতি দৃঢ় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং দেশটিকে শক্তিশালী ও প্রস্তুত রাখাটা জাতীয় স্বার্থের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
একই সময়ে সৌদি আরবের জন্য অনুমোদন করা হয়েছে ৯ বিলিয়ন ডলারের একটি প্যাকেজ, যার মধ্যে আছে ৭৩০টি প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র—যেগুলো আকাশ থেকে আক্রমণ প্রতিহত করার কাজে ব্যবহার হবে। এই সরবরাহকে সৌদি-মিত্রদের প্রতিরক্ষা ক্ষমতা বাড়াতে নেয়া হয়েছে বলে মার্কিন দফতর জানিয়েছে।
পরিস্থিতিগত প্রেক্ষাপট হিসেবে, গত বছর ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের হামলা চালায়, যা মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়িয়েছে। সৌদি আরব ইরানের বিরুদ্ধে সরাসরি কোনো বড় পদক্ষেপ নেওয়ার ব্যাপারে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে, যাতে অঞ্চলীয় অস্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক প্রভাব সীমিত থাকে।
এছাড়া, গত অক্টোবর মাসে স্বীকৃত একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে—যা যুক্তরাষ্ট্র দ্বারা সমর্থিত। ২০২৩ সালে হামাসের আক্রমণের পর ইসরায়েলের প্রতিলাঘব অভিযানে গাজায় হতাহতদের সংখ্যা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে; ওই অভিযানে কমপক্ষে ৭১,৬৬৭ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে উল্লেখ আছে।
মার্কিন এই অস্ত্রচুক্তিগুলো অঞ্চলের নিরাপত্তা কাঠামো ও কূটনৈতিক বলবৎকে কীভাবে প্রভাবিত করবে, তা নিয়েই আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আলোচনা তীব্র হতে পারে।
আজকালের খবর/বিএস

