শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে জামায়াতে ইসলামীর নেতা মাওলানা রেজাউল করিম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এক মামলা দায়ের করেছেন নিহতের স্ত্রী মারজিয়া বেগম। মামলায় বিএনপির মনোনীত প্রার্থীসহ মোট ৭৩১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে ২৩১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং আরও অজ্ঞাতনামা হিসেবে প্রায় ৫০০ জনকে আসামি তকমা দেয়া হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটে ২৮ জানুয়ারি, যখন ঝিনাইগাতীর মিনি স্টেডিয়ামে নির্বাচনী ইশতেহার পাঠের অনুষ্ঠানের আগে চেয়ারে বসাকে কেন্দ্র করে জামায়াত ও বিএনপি সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। এই দফায় দফায় সংঘর্ষে উভয় পক্ষের কমপক্ষে অর্ধশতাধিক নেতা ও কর্মী আহত হন। গুরুতর আহত অবস্থায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে জামায়াত নেতা রেজাউল করিমের মৃত্যু হয়।
ঘটনার পর থেকে শেরপুরের শ্রীবরদী ও ঝিনাইগাতী উপজেলায় পরিস্থিতি যথেষ্ট উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। অনেক এলাকাে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। অভিযোগ উঠেছে, এই ঘটনায় কিছু বিএনপি নেতাকর্মী আত্মগোপনে রয়েছেন।
প্রশাসন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ রাখতে ঝিনাইগাতী ও শ্রীবরদীতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করেছে। পাশাপাশি বিজিবি ও সেনাবাহিনী ব্যাপক টহল জোরদার করেছে।
এদিকে, জামায়াত নেতা রেজাউল করিমের মৃত্যুতে শেরপুরে রোববার সকালে জামায়াতে ইসলামীর নেতা ডা. শফিকুর রহমান আসছেন। সফরে তিনি প্রথমে নিহতের কবর জিয়ারত করবেন এবং পরে শেরপুর পৌরপার্ক মাঠে এক জনসভায় বক্তব্য দেবেন বলে নিশ্চিত করেছেন শেরপুর জেলা জামায়াতের প্রচার বিভাগের সদস্য গোলাম কিবরিয়া ভিপি।
অপরদিকে, আজ শনিবার বিকেলে উপজেলার মিনি স্টেডিয়ামে নিহত জামায়াত নেতা রেজাউল করিমের রুহের মাগফেরাত কামনা করে দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।

