নাচের বড় মঞ্চ-শারদ নেই; পিঠার ঘ্রাণ, স্মৃতিচারণ ও মিলনমেলা নিয়েই উদযাপন করেছে দেশের প্রখ্যাত নৃত্যসংস্থা ও স্কুল ‘নৃত্যাঞ্চল’ তাদের ২৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। আজ মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ের রাজধানী স্কুল মাঠে ব্যতিক্রমধর্মী এই রজতজয়ন্তী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
নিশক তারেক আজিজের বরাত দিয়ে জানা গেছে, শীতের নানা পিঠা, নৃত্যাঞ্চলের সদ্যতম প্রোজেক্ট ও পুরনো পথচলার পোস্টারগুলো দিয়ে সাজানো হয়েছে কেনাকাটা ও স্মৃতি-প্রদর্শনী। অভিভাবক, শিক্ষার্থী ও শিল্পীদের সমাগমে তৈরি হয়েছিল একটি আন্তরিক ও বন্ধুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক পরিবেশ। বড় মঞ্চনৃত্য না থাকলেও চলে স্মৃতিচারণ, ডকুমেন্টেশন প্রদর্শনী আর প্রিয়জনদের সঙ্গে সময় কাটানোর হালকা অথচ অর্থবহ আয়োজন।
নৃত্যাঞ্চল ২০০০ সালে সাংস্কৃতিক সংগঠক মুহাম্মদ জাহাঙ্গীরকে সঙ্গে নিয়ে তারকা নৃত্যশিল্পী শিবলী মহম্মদ ও শামীম আরা নীপার নেতৃত্বে যাত্রা শুরু করে। প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য ছিল নৃত্যের মাধ্যমে দেশের সংস্কৃতিকে তুলে ধরা এবং নতুন প্রজন্মের নৃত্যশিল্পী তৈরি করা। পঁচিশ বছরে সেই স্বপ্ন বহুমুখী রূপে ফলেছে—শতশত শিক্ষার্থী তদুপরি অসংখ্য প্রযোজনায় নৃত্যাঞ্চলের ছাপ স্পষ্ট।
সংস্কারের ভিন্ন রূপে রজতজয়ন্তী আয়োজন প্রসঙ্গে শিবলী মহম্মদ বলেন, “নাচ তো আমাদের কাজই—কিন্তু এবার আমরা চান ঘরোয়া, কাছের মানুষজনকে নিয়ে একটা উষ্ণ জমায়েত। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী মানেই মঞ্চনৃত্য—এই নিয়ম থেকে একটু সরে এসে আমাদের ডকুমেন্টেশন দেখানোই ছিল মূল উদ্দেশ্য। তবু ছাত্রছাত্রীদের কিছু নাচও থাকছে, পিঠা উৎসব ও মিলনমেলার সঙ্গে মিলিয়ে।”
তিনি জানান, এবারের আয়োজনের মুখ্য উদ্দেশ্য ছিল অভিভাবক, শিক্ষার্থী, শিল্পী ও শুভানুধ্যায়ীদের সঙ্গে একসঙ্গে সময় কাটানো ও অতীত স্মৃতি ভাগাভাগি করা।
শামীম আরা নীপা कहते, “এটা আনন্দঘন ২৫ বছর। আমরা কাজ করি আনন্দের জন্য—শুরু থেকেই স্বপ্ন ছিল দেশের সংস্কৃতিকে নৃত্যের মাধ্যমে তুলে ধরা ও নতুন প্রজন্ম তৈরি করা। আজ মনে হয় অনেকটা পথ পেরিয়েছি; এটা সময়ের হিসাব নয়, আমাদের জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।” তিনি আরও জানান, নৃত্যাঞ্চল শুরু থেকেই সম্পূর্ণ নৃত্যকেন্দ্রিক একটি প্রতিষ্ঠান; গান বা আবৃত্তির সঙ্গে মিশিয়ে নয়, শুধুই নৃত্যকে কেন্দ্র করে কাজ করাই সংগঠনটির ভিন্ন পরিচয় ساخته করেছে।
উৎসবভিত্তিক এই রজতজয়ন্তী ছিল পরিচয়-জগানো, স্মৃতি-আঁকড়ে রাখার এবং আগামী দিনের পথের পরিকল্পনা করা—সব মিলিয়ে এক ঘরোয়া, স্নিগ্ধ সাংস্কৃতিক মিলনমেলা।
আজকালের খবর/আতে
