আন্তর্জাতিক হিসাব ও জ্যোতির্বিজ্ঞানের মানদণ্ড মতে, বিশ্বের কিছু অংশে ১৭ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় পবিত্র রমজানের কদাচিৎ চাঁদ দেখা যেতে পারে—তবু আরব বা ইসলামি বিশ্বের অধিকাংশ অঞ্চল থেকে ওইদিন চাঁদ দেখা হওয়া বেশিরভাগই অসম্ভব বলে জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
আবুধাবির ইন্টারন্যাশনাল অ্যাস্ট্রোনমি সেন্টারের (আইএসি) পরিচালক মুহাম্মদ শওকত ওদেহ বলেন, ১৭ ফেব্রুয়ারি (মঙ্গলবার) আরব ও ইসলামি বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে খালি চোখে, দুরবিনে বা উন্নত জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক ইমেজিং প্রযুক্তি ব্যবহার করেও রমজানের চাঁদ দেখা সম্ভব নয় বা প্রায় অসম্ভব।
এর ফলে আরব আমিরাত, সৌদি আরব ও বেশিরভাগ আরব দেশে ১৮ ফেব্রুয়ারি পবিত্র শাবান মাস ৩০ দিন পূর্ণ হিসেবে গণ্য করা হতে পারে এবং ১৯ ফেব্রুয়ারি পবিত্র রমজান শুরু হিসেবে ধরা হতে পারে। অর্থাৎ যেসব দেশে স্থানীয়ভাবে চাঁদ দেখা নির্ভর করে রোজা শুরু করা হয়, সেগুলোতে ১৮ ফেব্রুয়ারিকে শাবান মাসের শেষ দিন ধরে ১৯ ফেব্রুয়ারি রোজা শুরু হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।
আইএসি পরিচালকের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, ১৭ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় ইসলামি বিশ্বের পূর্বাঞ্চলে সূর্যের আগেই চাঁদ অস্ত কর্মে যাবে, মধ্যাঞ্চলে সূর্যাস্তের সঙ্গে প্রায় একসাথে এবং পশ্চিমাঞ্চলে সূর্যাস্তের মাত্র কয়েক মিনিট পর চাঁদ অস্তাবে। এই স্বল্পতম সময়ের ব্যবধান ও চাঁদের কম বয়সের কারণে দৃশ্যমান সূক্ষ্ম চাঁদ হিসেবে দেখা গড়ে উঠবে না।
জ্যোতির্বিজ্ঞানের হিসাব অনুযায়ী সংযুক্ত আরব আমিরাতে চাঁদের নীচের প্রান্ত সূর্যাস্তের একটি মিনিট আগে অস্তাবে; রিয়াদে ৪২ সেকেন্ড আগেই; সৌদি আরবের তাবুক অঞ্চলে চাঁদ ঠিক সূর্যাস্তের সময় অস্তাবে। তখন চাঁদের বয়স মাত্র ১ ঘণ্টা ৪৯ মিনিট এবং সূর্যের সঙ্গে কোণীয় বিচ্ছিন্নতা মাত্র এক ডিগ্রির মতো—এসব অবস্থায় চাঁদ দেখা দায়সাধ্য। মিসরের কায়রোতে চাঁদ সূর্যাস্তের দুই মিনিট পর, আর আলজেরিয়ায় ছয় মিনিট পর অস্তালেও জ্যোতির্বিজ্ঞানের মতে সেখানে থেকেও ওইদিন দৃশ্যমান কদাকার চাঁদ দেখা যাবে না।
আইএসি কর্তৃপক্ষ এমন পরিস্থিতিতে অনলাইনে বা সোশ্যাল মিডিয়ায় মিথ্যে চাঁদ দেখা সম্পর্কিত খবর ছড়ানো হলে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন, কারণ অনেকেই সেসব বিভ্রান্তিকর তথ্যের দ্বারা প্রভাবিত হতে পারেন।
তবে বাংলাদেশ, পাকিস্তান, ইরান, মরক্কো, মৌরিতানিয়া ও আফ্রিকার কিছু অংশে ১৮ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় চাঁদ খোঁজা হবে। স্থানীয় আবহাওয়া ও ফলাফল নির্ভর করে এসব দেশে রমজান শুরু ১৯ অথবা ২০ ফেব্রুয়ারি হতে পারে।
(তথ্যসূত্র: আইএসি অধিকর্তা বিবৃতি, আজকালের খবর/বিএস)

