সোনার বাজারের ওঠানামা অব্যাহত রয়েছে; আন্তর্জাতিক দরপতনের প্রভাব পড়েছে দেশের বাজারেও। এমন পরিস্থিতিতেই বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) সোমবার ঘোষণা দিয়েছে যে প্রতি ভরিতে সর্বোচ্চ ৬,৫৯০ টাকা পর্যন্ত সোনার দাম কমানো হয়েছে। এতে ২২ ক্যারেটের ভালো মানের এক ভরির দাম এখন নির্ধারিত হয়েছে ২ লাখ ৫১ হাজার ১৮৪ টাকায়।
বাজুস ওই নতুন মূল্য সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি আজ (সোমবার) বেলা পৌনে ১১টার দিকে জারি করে এবং বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, নির্ধারিত এই দাম সেই সময় থেকে কার্যকর হয়েছে। সংস্থাটির ভাষ্য, তেজাবি (পিওর গোল্ড) সোনার দাম আন্তর্জাতিক বাজারে কমে যাওয়ায় স্থানীয় বাজারে দাম সমন্বয় করা হয়েছে।
বাজুসের স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড মনিটরিংয়ের চেয়ারম্যান ডা. দেওয়ান আমিনুল ইসলাম শাহীন বলেন, গতকাল আন্তর্জাতিক বাজারে লেনদেন বন্ধ থাকলেও দেশের বাজার খোলা ছিল; তখন চাহিদা কম থাকায় রাতে দাম কমানো হয়েছিল। এরপর আজ আন্তর্জাতিক বাজার খুলে প্রতি আউন্সে প্রায় ২০০ ডলারের মতো দরপতন হয়েছিল। পরিবর্তিত বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে বৈঠক করে স্থানীয় দাম সমন্বয় করা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক বাজারে গতকালের তুলনায় বড় ধরণের দরপতন ঘটেছে। গোল্ডপ্রাইস.ওআরজি–র তথ্য অনুযায়ী, সোমবার আন্তর্জাতিকভাবে প্রতি আউন্সে স্বর্ণের দাম নেমে এসেছে ৪,৬৫১ ডলারে; শনিবার লেনদেন শেষে তা ছিল ৪,৮৯৩ ডলার। এর আগে শুক্রবার ৫,২০০ ডলার এবং বৃহস্পতিবার ৫,৫৫০ ডলারে উঠেছিল। রোববার আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের লেনদেন বন্ধ ছিল।
দেশীয় বাজারে আজকের বেঁধে দেওয়া দাম অনুযায়ী বিভিন্ন ক্যারেটের প্রতি ভরির দাম দাঁড়িয়েছে— ২২ ক্যারেট: ২,৫১,১৮৪ টাকা; ২১ ক্যারেট: ২,৩৯,৭৫৪ টাকা; ১৮ ক্যারেট: ২,০৫,৫২০ টাকা; এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম ১,৬৮,১৯৫ টাকা।
রুপার দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। দেশের বাজারে ২২ ক্যারেট রুপার প্রতি ভরি দাম ৭,২৯০ টাকা; ২১ ক্যারেট ৬,৯৪০ টাকা; ১৮ ক্যারেট ৫,৯৪৯ টাকা; এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ৪,৪৩২ টাকা।
গত সপ্তাহে বিশ্ববাজারে সোনার আকস্মিক উত্থান নেমে এসে দেশের বাজারেও রেকর্ড দাম তৈরি হয়েছিল— বৃহস্পতিবার বাজুস একবারে ভরিপ্রতি ১৬,২১৩ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেট সোনার দাম করেছে ২ লাখ ৮৬ হাজার টাকা, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ হিসেবে রেকর্ড হয়েছিল। এরপর ২৪ ঘন্টারও কম সময়ে শুক্রবার ভরিতে দাম কমিয়ে ১৪,৬০০ টাকা করা হয় এবং দাম নেমে আসে ২ লাখ ৭১ হাজার টাকায়।
বাজারে এ ধরণের ওঠানামার পেছনে আন্তর্জাতিক দর, স্থানীয় চাহিদা ও লেনদেন সময়ের ফ্লাকচুয়েশন কাজ করছে—বাজুস সেই পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখেই নিয়মিত মূল্য সমন্বয় করছে।
(সূত্র: আজকালের খবর/ এমকে)

