একটি সর্বশেষ জরিপে দেখা গেছে, আওয়ামী লীগ সমর্থকদের মধ্যে ৪৮ শতাংশ ভোটার বিএনপির প্রতি ঝুঁকেছেন। একই জরিপে জামায়াতে ইসলামীকে সমর্থন করেন ৩৭.৪ শতাংশ ভোটার — ভোটারদের রাজনৈতিক পছন্দে এই পরিবর্তনই বিভিন্ন দিক থেকে আলোচ্য হয়ে উঠছে।
জরিপটি যৌথভাবে পরিচালনা করেছে কমিউনিকেশন অ্যান্ড রিসার্চ ফাউন্ডেশন (সিআরএফ) ও বাংলাদেশ ইলেকশন অ্যান্ড পাবলিক ওপিনিয়ন স্টাডিজ। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে ‘আনকাভারিং দ্য পাবলিক পালস’ শীর্ষক জরিপের ফলাফল প্রকাশ করা হয়।
জরিপে অংশ নেওয়া ভোটারদের অধিকাংশই বলেছেন, তারা আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে ভোট দিতে আগ্রহী — ৯০ শতাংশেরও বেশি এই প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। আবার প্রায় ৮ শতাংশ ভোটার এখনো সিদ্ধান্তহীন; অংশগ্রহণ করবেন না বলেও অনেকে জানিয়েছেন।
ভোটারদের প্রধান উদ্বেগ হিসেবে সবচেয়ে ওপরে আছে দুর্নীতি — মোট অংশগ্রহণকারীদের ৬৭.৩ শতাংশ এটি প্রধান সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। ধর্মকে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হিসেবে অবশ্য ৩৫.৯ শতাংশ ভোটার দেখেছেন। পাশাপাশি শাসনব্যবস্থা, স্বচ্ছতা ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জও ভোটারদের কাছে গুরুত্ব পাচ্ছে।
ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব সম্পর্কে ভোটারদের প্রত্যাশা স্পষ্ট: তারা চান এমন একজন নেতা যার মনোযোগ থাকবে সাধারণ মানুষের কল্যাণে, যিনি কার্যকর ও দৃঢ়ভাবে দেশ পরিচালনা করতে পারবেন। ব্যক্তিগত ক্যারিশমার চেয়ে ভোটাররা সহমর্মিতা, জবাবদিহিতা ও শাসনক্ষমতাকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন।
রাজনৈতিক তথ্যের উৎস হিসেবে টেলিভিশন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে সবচেয়ে প্রভাবশালী মনে করেন ভোটাররা। জরিপে দেখা গেছে অনেকে একক নয়—একাধিক প্ল্যাটফর্ম থেকে তথ্য সংগ্রহ করে থাকেন, ফলে প্রথাগত ও ডিজিটাল মিডিয়ার মিশ্র ব্যবহার বাড়ছে।
নির্বাচনের দিন নিরাপত্তা নিয়েও ব্যাপক উদ্বেগ আছে: ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা, ভয়ভীতি, ভোট কারচুপি ও ব্যালট ভর্তি—এ ধরনের আশঙ্কা প্রায় সব রাজনৈতিক দলের সমর্থকদের মধ্যেই দেখা গেছে।
আরেকটি লক্ষ্যণীয় দিক হলো প্রার্থীর গুরুত্ব বৃদ্ধি: প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ উত্তরদাতা জানিয়েছেন, তাদের ভোটের সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রার্থীকে বিবেচ্য করবেন। এর মধ্যে ৩০.২ শতাংশ শুধু প্রার্থীর ওপর ভিত্তি করেই ভোট দেন, আর ৩৩.২ শতাংশ ভোটার প্রার্থী ও দল—দুটোকেই মিলিয়ে সিদ্ধান্ত নেন।
জরিপটি সারা দেশের ১১,০৩৮ জন ভোটারের মধ্যে স্তরভিত্তিক দ্বৈবচয়ন পদ্ধতিতে পরিচালনা করা হয়। তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছিল দুই ধাপে — ২০২৫ সালের ২০ নভেম্বর থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত।
(আজকালের খবর/বিএস)

