ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি কেবল বিতর্ক আর রাজনীতির জায়গা নয়—এখানেই নিয়মিত হয়ে উঠছে নানা সাংস্কৃতিক আয়োজনও। ভাষা আন্দোলনের চেতনায় সাজানো ‘আমার ভাষার চলচ্চিত্র’ শীর্ষক একটি উৎসব আগামীকাল, ৩ ফেব্রুয়ারি থেকে টিএসসি তে শুরু হবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চলচ্চিত্র সংসদ আয়োজিত এই ছয়দিনব্যাপী উৎসব ৮ ফেব্রুয়ারি শেষ হবে। এবারে উৎসবে মোট ২০টি পূর্ণদৈর্ঘ্য ও ৩টি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হবে।
উৎসবের সূচি সংক্ষেপে:
প্রথম দিন (৩ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় ৬:৩০ মিনিটে আহমেদ হাসান সানির ‘এখানে রাজনৈতিক আলাপ জরুরি’ প্রদর্শন দিয়ে উৎসব শুরু হবে। এতে নূর নামে এক প্রবাসী বাংলাদেশির ভূমিকায় অভিনয় করেছেন ইমতিয়াজ বর্ষণ।
দ্বিতীয় দিন (৪ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টায় শুরু হবে সুনীল বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘দেয়া নেয়া’। দুপুর ১২:৩০টায় দর্শক দেখতে পাবেন আলমগীর কবীরের ‘সূর্যকন্যা’। বিকালে ৩:৩০ মিনিটে প্রদর্শিত হবে শরাফ আহমেদ জীবনের ‘চক্কর ৩০২’ এবং সন্ধ্যা ৬:৩০টে রয়েছে রায়হান রাফীর ‘তাণ্ডব’।
তৃতীয় দিন (৫ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টায় শুরু হচ্ছে সালাউদ্দিন পরিচালিত ‘রূপবান’। দুপুর সাড়ে ১২টায় দেখা যাবে সাদিক আহমেদের ‘দ্য লাস্ট ঠাকুর’। বিকাল ৩:৩০টায় প্রদর্শিত হবে পিপলু আর খানের ‘জয়া আর শারমিন’ এবং সন্ধ্যা ৬:৩০টায় মনিরুল হক পরিচালিত ‘ইউনিভার্সিটি অব চানখাঁরপুল’ দেখানো হবে।
চতুর্থ দিন (৬ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টায় পর্দায় আসছে হারুনুর রশিদ পরিচালিত ‘মেঘের অনেক রঙ’। দুপুর ১২:৩০টায় প্রদর্শিত হবে জনপ্রিয় ছবি ‘বেদের মেয়ে জোসনা’। বিকালে ৩:৩০টায় মিঠু খান পরিচালিত ‘নীলচক্র’ এবং সন্ধ্যা ৬:৩০টায় কামার আহমাদ সাইমনের ‘অন্যদিন’ দেখানো হবে।
পঞ্চম দিন (৭ ফেব্রুয়ারি) প্রোগ্রামে রয়েছে তপন সিনহার ‘হারমোনিয়াম’, তারেক মাসুদের ‘মুক্তির গান’, সানী সানোয়ারের ‘এশা মার্ডার’ এবং তানিম নূরের ‘উৎসব’।
সমাপনী দিন (৮ ফেব্রুয়ারি) তিনটি পূর্ণদৈর্ঘ্য ও তিনটি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র প্রদর্শন করা হবে। দিনের শুরুতে দেখা যাবে বেলাল আহমেদ পরিচালিত ‘নয়নের আলো’, তার পর কাজী হায়াতের ‘ধর’। বিকেলে সাড়ে তিনটায় তিনটি স্বল্পদৈর্ঘ্য—মাহফুজ সরকারের ‘মায়া: দ্য নেম উই কল’, আহসাবুল ইয়ামিনের ‘জন্ম থেকে জ্বলছি’ ও উম্মিদ আশরাফের ‘ধ্যাৎ’—প্রদর্শিত হবে।
উৎসবের সমাপনী চলচ্চিত্র হিসেবে কলকাতার জয়ব্রত দাশের ‘দ্য অ্যাকাডেমি অব ফাইন আর্টস’ দেখানো হবে।
ভাষার চেতনায় রচিত ও নির্বাচিত এই প্রদর্শনী টিএসসি-কে এক সাংস্কৃতিক মিলনক্ষেত্রে পরিণত করবে বলে আয়োজকেরা আশা করছেন।

