রংপুরের মিঠাপুকুরে পৈতৃক জমি দখল ও ধারাবাহিক নির্যাতন থেকে জীবনের নিরাপত্তা দাবি করে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী গৃহবধূ কোহিনূর বেগম (৪০)। গতকাল বৃহস্পতিবার মিঠাপুকুর প্রেসক্লাবে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন ও প্রশাসনের উচ্চস্তরের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন।
কোহিনূর বেগম জানান, তার স্বামী আজিজুল ইসলাম শ্বশুর মনতাজ আলীর ছোট ছেলে। স্বামী-স্ত্রী দুজন মিলে ঢাকায় গার্মেন্টসে প্রায় ২৪ বছর কাজ করেছেন। এর পরে বাড়ি ফিরে পৈতৃক জমি নিয়ে বিরোধ শুরু হয়। অভিযোগ, শ্বশুরের জীবিত থাকাকালে তাদের দেওয়া কিছু জমি ভাসুর আনিছুর রহমান ও আশরাফুল ইসলাম নিজেদের নামে রেজিস্ট্রি করে নেয় এবং ঢাকায় থাকার সুযোগে যা জমি দান করা হয়েছিল তা অন্যত্র বন্ধকও রেখেছে।
জমি ফেরত চাওয়ার পর অভিযোগ মোতাবেক ভাসুররা শ্বশুরকে উসকানি দিয়ে সেখানে থাকা দলিল বাতিলের জন্য মামলা দায়ের করেন। দাবি করা হয়, বারবার নির্যাতন ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে কোহিনূর ও তার স্বামীকে বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করার চেষ্টা করা হচ্ছে। কোহিনূর বলেন, আনিছুর ও আশরাফুল তার ও তার স্বামীর বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত সাতটি মিথ্যা মামলা করেছেন। পাশাপাশি, শ্বশুর এক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হলে সেটিকেও ‘হত্যা’ বলে সাজিয়ে তার নামে মিথ্যা মামলা করা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত প্রতিবেশীরা জানিয়েছে, কোহিনূরকে বিভিন্ন সময় নির্যাতন থেকে বাঁচাতে গেলে তাদেরকেও আনিছুর ও আশরাফুল প্রতিহিংসার শিকার করছেন এবং মিথ্যা মামলায় হয়রানি করছেন।
কোহিনূর বেগম জানালেন, বারবার পুলিশে গেলেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা হচ্ছে না; তাই তিনি প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন পর্যায়ে হস্তক্ষেপ চান এবং নিরাপত্তা চান।
মিঠাপুকুর থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ নুরুজ্জামান সাংবাদিকদের বলেন, বিষয়টি দুই পরিবারের মধ্যে ভাইবোনের বিরোধ থেকে সৃষ্টি; এ সংক্রান্ত একাধিক মামলা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। তিনি বলেন, যদি কোনো জোরজবরদস্তি বা অপরাধমূলক ঘটনা ঘটে পুলিশ পবে মৌখিকভাবে নয়, যথাযথ প্রক্রিয়ায় মামলা গ্রহণ করে ব্যবস্থা নেবে।

