কটিয়াদী উপজেলার বৈরাগীরচর উচ্চ বিদ্যালয়ে ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) দিনব্যাপী উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রাতঃকালীন জাতীয় সঙ্গীত ও পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে সকাল ৯টায় আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়।
বিদ্যালয় মাঠ ভরে ছিল শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকার গণ্যমান্যদের উপস্থিতিতে। দৌড়, লং জাম্প, হাই জাম্প, বল নিক্ষেপ, ফুটবল, ভলিবল, ব্যাডমিন্টন, রশি টানাটানি সহ মোট ৪১টি ইভেন্টে প্রায় ৩০০ শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। অনুষ্ঠানে প্রতিযোগিতার উত্তেজনা ও কিশোর-কিশোরীদের প্রাণবন্ত কর্মদক্ষতা চোখে পড়ার মতো ছিল।
অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন কটিয়াদী উপজেলা নির্বাহী অফিসার শামীমা আপরোজ মারলিজ। তিনি জাতীয় পতাকা উত্তোলন, শপথ বাক্য পাঠ, প্যারেড ও মশাল প্রজ্বলনের মাধ্যমে উদ্বোধনী কার্যক্রম সম্পন্ন করেন। প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দিয়ে তিনি বলেন, শিক্ষা উপকরণ ও কৃতিত্ব সনদ কিশোর-কিশোরীদের আরও উত্সাহী করবে এবং পড়াশোনায় অনুপ্রেরণা যোগাবে।
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জীবন কুমার দাসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা একাডেমি সুপারভাইজার মুহাইমিনুল ইসলাম আরিফ, উপজেলা সমাজসেবা অফিসার মোঃ আবুল খায়ের ও উপজেলা বিআরডিবি অফিসার মুহাম্মদ আজিজুল হক।
স্বাগত বক্তব্য রাখেন সিনিয়র শিক্ষক মাহমুদা ইয়াছমিন। অনুষ্ঠানে মসূয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান একেএম শামসুদ্দিন বাচ্চু, সেবামূলক সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘আলোর ঝলক’ এর সভাপতি জাকির হোসেন, প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক এবিএম বোরহান উদ্দিন, উদয়ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শহীদুল্লাহ্, বাংলাদেশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি কটিয়াদী উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল হক জাকিরসহ স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দ দেখা যায়। অনুষ্ঠানের সঞ্চালনা করেন শিক্ষক মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান আকন্দ।
অসংখ্য শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে প্রতিযোগিতা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়; প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান দখলকারীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয় এবং কৃতি শিক্ষার্থীদের সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। এছাড়া অংশগ্রহণকারীদের প্রতি উৎসাহমূলক উপহার ও সনদও দেওয়া হয়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের যুগ্ম পরিচালক মুখলেছুর রহমান উপস্থিত থেকে বলেন, শিশুশিক্ষা ও ক্রীড়াকে উৎসাহিত করতে প্রতিবছরই এই পুরস্কার দেওয়া হয়। তিনি আরও বলেন, মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে এ পুরস্কার ভবিষ্যতেও অব্যাহত রাখা হবে।
পুরস্কার বিতরণ ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দিনব্যাপী ক্রীড়া প্রতিযোগিতার সমাপ্তি ঘটে। আয়োজকরা জানান, এমন ধাঁচের ক্রীড়া উৎসব শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে এবং স্কুল-সমুদ্র অঞ্চলের ক্রীড়া চর্চাকে জোরদার করবে।
কাওছার/আজকের খবর
