বাংলাদেশিদের ভিসা না দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন বলেন, এই সমস্যা পুরো দেশের, বিশেষ করে সিস্টেমের দায়। তিনি স্পষ্ট করে বলেছিলেন, এটা দেশের বা ব্যক্তিগত কোনও দোষের বিষয় নয়। ওই দিন (৫ ফেব্রুয়ারি) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে এক আনুষ্ঠানিক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা ব্যক্ত করেন।
নিজের ব্যাখ্যায় মো. তৌহিদ হোসেন বলেন, বিশ্বজুড়ে প্রচুর সুযোগ থাকা সত্ত্বেও আমরা এগুলো ব্যবহার করতে পারছি না, কারণ আমাদের সিস্টেমের দুর্বলতা। তিনি আরও জানান, আমাদের মধ্যে জালিয়াতির প্রবণতা বেশ উচ্চমানের, যা আমাদের সক্ষমতাকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করায়। তিনি বলেন, যখন একজন ব্যক্তি জাল কাগজপত্র ব্যবহার করে ভিসার জন্য আবেদন করেন, তখন কাগজের সত্যতা বা বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে আমাদের কঠিন চ্যালেঞ্জ রয়েছে। যেমন ধরুন, কেউ যদি মনে করে যে সে মেইডের জন্য বিদেশে যাবেন, কিন্তু তার ভিসা অ্যাপ্লিকেশন দেখা যায়, তিনি ফ্রন্ট অফিসার বা অন্য কোনও পেশার হিসেবে দেখানো হয়েছে, যা বাস্তবের সঙ্গে মেলে না। এর ফলে আমাদের জালিয়াতির চিত্র স্পষ্ট হয়।
তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, যতক্ষণ আমরা আমাদের সিস্টেমের উন্নতি করি না, ততক্ষণ এই ধরনের সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া কঠিন এবং ভবিষ্যতে আরও কঠিন পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে।
এছাড়া, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক নিয়ে তিনি অবনীন্দন প্রকাশ করে বলেন, এই সম্পর্ক খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আশা করেছিলেন, দুই দেশ আরও ভালো সম্পর্ক বজায় রাখবে। তবে, এটি সফল হয়েছে বলে দাবি করতে পারেন না। কারণ, সম্পর্কের মধ্যে কিছু দ্বন্দ্ব থাকছে, যেগুলো খুবই স্বাভাবিক। তিনি ব্যাখ্যা করেন, ভারত তাদের দেশের স্বার্থ তুলে ধরেছে, আমরাও আমাদের স্বার্থের প্রতি গুরুত্ব দিয়েছি। এতে কিছু বিষয় হঠাৎ অগ্রসর হয়নি এবং এর জন্য কেউই দোষ দিতে চান না। তিনি স্বীকার করেন, সমঝোতা ও সম্পর্কের দ্বন্দ্বগুলি বছরের পর বছর ধরে চলেছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ককে তিনি খুবই মসৃণ বলে মনে করেননি, তবে ভবিষ্যতে তা উন্নত হবে বলে আশাবাদ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, আমাদের পরবর্তী সরকার বাস্তবায়নে অনেক কিছুই এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে, যার ফলে ভবিষ্যতে সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বর্তমান সরকারের ব্যস্ততাকে ব্যাখ্যা করে বলেন, তারা বিভিন্ন দেশের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর করছে যা পরবর্তী সরকারের জন্য বোঝা হয়ে যাবে কিনা—এমন প্রশ্নে তিনি উত্তরে বলেন, তা না, বরং আমরা অনেক বিষয় এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি যেন পরবর্তী সরকার আরও সহজে কাজ করতে পারে। তিনি মনে করেন, এই প্রক্রিয়াগুলোর মাধ্যমে দেশের অগ্রগতি সম্ভব এবং ভবিষ্যতে উন্নয়ন অব্যাহত থাকবে।
