নীলফামারীতে বিএনপির জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়ে দলটির চেয়ারপার্সন তারেক রহমান শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) বললেন, নির্বাচনকে ঘিরে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে কারণ কিছু দল হারার আশঙ্কায় আছে। তিনি জানান, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে যদি কোনো ধরনের ষড়যন্ত্র করা হয়, তাহলে তাদের জবাব দাঁতভাঙা হবে। ভবিষ্যতের রাজনীতি হবে দেশ পুনর্গঠন ও জনগণের জীবনমান উন্নয়নের রাজনীতি — এমনটাই ভাষ্য দিয়েছেন তিনি।
দুপুর ২টা ৭ মিনিটে নীলফামারী পৌর বড় মাঠে বিএনপির আয়োজিত এই নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন তারেক রহমান। তিনি নীলফামারীর জন্য দলটির কিছু পরিকল্পনা তুলে ধরেন এবং এলাকাটিকে আধুনিক শিল্পাঞ্চলে পরিণত করার অঙ্গীকার করেন।
তারেক রহমান জানান, নীলফামারীর ইপিজেড (রপ্তানি প্রক্রিয়াজাতকরণ অঞ্চল) সম্প্রসারণ করা হবে এবং সৈয়দপুর বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি বলেন, ক্ষমতায় এলে তিস্তা ব্যারাজ নির্মাণের মহাপরিকল্পনা দ্রুতভাবে বাস্তবায়ন শুরু করা হবে, যা উত্তরাঞ্চলের কৃষি ও অর্থনীতিতে ব্যাপক পরিবর্তন আনবে।
নারীর ক্ষমতায়ন বিষয়ে তিনি বলেন, নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে এবং কর্মসংস্থান বাড়াতে বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালু করা হবে।
কৃষকদের কল্যাণে বিএনপির পরিকল্পনা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ও ‘কৃষি কার্ড’ চালু করা হবে। এসব কার্ডের মাধ্যমে কৃষকরা সহজ শর্তে ঋণ পাবেন এবং সার, কীটনাশকসহ কৃষি উপকরণ সাশ্রয়ে সংগ্রহ করতে পারবেন।
তারেক রহমান আরও ঘোষণা করেন, ধানের শীষ প্রতীকধারী প্রার্থী বিজয়ী হলে কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করা হবে। পাশাপাশি রেজিস্টার্ড এনজিও থেকে নেওয়া কৃষিঋণের দায়ভার সরকার বহন করবে বলেও জানান তিনি।
জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মীর সেলিম ফারুকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জনসভায় উপস্থিত ছিলেন নীলফামারী-১ আসনের জন্য জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের প্রার্থী মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দি, নীলফামারী-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী ও তারেক রহমানের খালাতো ভাই ইঞ্জিনিয়ার শাহরিন ইসলাম চৌধুরী তুহিন, নীলফামারী-৩ এর BNP প্রার্থী সৈয়দ আলী এবং নীলফামারী-৪ এর প্রার্থী আব্দুল গফুর সরকার। জেলা ও উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মীও জনসভায় যোগ দেন।
— কাওছার/আজকের খবর

