বিদায়ী জানুয়ারি মাসে দেশের সড়কগুলোতে প্রাণহানির এক দারুণ দৃষ্টান্ত উঠে এসেছে। মাসজুড়ে মোট ৫৫২টি দুর্ঘটনায় ৫৪৬ জন নিহত ও ১,২০৪ জন আহত হয়েছেন। এদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু ও আহতের শিকার হয়েছেন মোটরসাইকেল চালক ও যাত্রী। মোট দুর্ঘটনার প্রায় ৩৭ দশমিক ৮৬ শতাংশই ছিল মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা।
বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির দুর্ঘটনা মনিটরিং সেলের বার্ষিক পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে জানানো হয়, এই তথ্যটি। প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, জানুয়ারি মাসে সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ঘটেছে ঢাকায়, যেখানে ১৩২টি দুর্ঘটনায় ১৩৩ জন নিহত ও ৩২৮ জন আহত হয়েছেন। অপেক্ষাকৃত কম দুর্ঘটনা ঘটেছে সিলেট বিভাগে, যেখানে ২৯টি দুর্ঘটনায় ২৮ জন নিহত হয়েছেন।
দুর্ঘটনার ধরনে দেখা যায়, শীর্ষে রয়েছে মোটরসাইকেল, যা মোট দুর্ঘটনার ২৮.৪৬ শতাংশ। এর পরে রয়েছে ট্রাক, পিকআপ ও লরি (২৩.৬৪ শতাংশ), বাস (১৪.৩৫ শতাংশ), ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইক (১৩.৬৩ শতাংশ) এবং সিএনজি চালিত অটোরিকশা (৫.৫৪ শতাংশ)।
নিহতদের মধ্যে বিভিন্ন পেশার মানুষ রয়েছেন। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ১২৭ জন চালক, ৮৯ জন পথচারী, ৫৪ জন নারী, ৪৮ জন শিশু, ৫৭ জন শিক্ষার্থী, ২১ জন পরিবহন শ্রমিক এবং ৮ জন শিক্ষক মৃত্যুবরণ করেছেন। সঙ্গে রয়েছেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ৫ সদস্য ও ৪ চিকিৎসক।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, সড়ক ছাড়াও রেল ও নৌপথও অনিরাপদ। জানুয়ারি মাসে রেলপথে ৩৭টি দুর্ঘটনায় ৩৩ জন নিহত ও ২৮ জন আহত হয়েছেন। আর নৌপথে ৮টি দুর্ঘটনায় ৭ জন নিহত ও ৬ জন আহত হয়েছেন, পাশাপাশি ৩ জন নিখোঁজ। সব মিলিয়ে সড়ক, রেল ও নৌপথে মোট ৫৯৭টি দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ৫৮৬ জন এবং আহত হয়েছেন ১,২৩৮ জন।
যাত্রী কল্যাণ সমিতি দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে—সড়ক পরিবহন খাতে নীতি ও কৌশলগত দুর্বলতা, ফিটনেসবিহীন যানবাহন, বেপরোয়া গতি এবং মহাসড়কে ছোট যানবাহনের (ইজিবাইক, মোটরসাইকেল) অবাধ চলাচল।
এছাড়াও, দুর্ঘটনা রোধে সমিতি ১৪ দফা সুপারিশ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে—আধুনিক বাস নেটওয়ার্ক গঠন, ট্রাফিক আইন কঠোরভাবে কার্যকর করার জন্য সিসি ক্যামেরা স্থাপন, মহাসড়কে সার্ভিস লেন নির্মাণ, দক্ষ চালক তৈরি এবং প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি বিশেষজ্ঞ টাস্কফোর্স গঠন।

