মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ইরান যুদ্ধের কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের সরবরাহে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এতে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের ফিলিং স্টেশনগুলোতে ক্রেতাদের ব্যাপক ভিড় দেখা যাচ্ছে এবং অতিরিক্ত তেল মজুত করার প্রবণতাও বেড়েছে। এই পরিস্থিতি সাময়িক হলেও দীর্ঘমেয়াদে যেন দেশে জ্বালানি সংকট সৃষ্টি না হয়, সেজন্য রবিবার থেকে রেশনিং পদ্ধতিতে জ্বালানি তেল বিক্রি শুরু করা হবে বলে জানিয়েছেন জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। শুক্রবার (৬ মার্চ) পরীবাগের একটি পেট্রোল পাম্প পরিদর্শন শেষে তিনি এ ঘোষণা দেন। এছাড়া এই বিষয়ক লিখিত নির্দেশনা সবাইকে পাঠানো হবে বলে জানান তিনি।
প্রতিমন্ত্রী আশ্বাস দেন, এই পরিস্থিতিতে জনগণের মধ্যে যে সংশয় তৈরি হয়েছে, তার কোনও কারণ নেই। যুদ্ধাবস্থার কারণে স্বাভাবিকভাবেই কিছুটা দুশ্চিন্তা দেখা দিচ্ছে, তবে আমাদের কাছে পর্যাপ্ত পরিমাণ তেল মজুত রয়েছে। তিনি বলেন, “গত কয়েকদিনে আমরা কয়েকগুণ বেশি তেল সরবরাহ করেছি। ক্রেতাদের কেউ কেউ স্বীকার করেছেন, তারা বেশি করে তেল নিচ্ছেন। এ আতঙ্ক মোকাবেলায় সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।”
অতিরিক্ত দরকারেই আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য বেড়েছে, যা আমাদের জন্য এক প্রকার চাপ সৃষ্টি করছে। তবে সরকার চেষ্টা করছে দাম বেশি না বাড়ানো, যদি প্রয়োজন হয়, তা জনগণের সাথে শেয়ার করবো। তিনি বললেন, ‘আমরা দেশের স্বস্তির জন্য সবসময় সচেতন এবং সকলের সহযোগিতা কামনা করছি।’
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি সাময়িক এবং সরকারের সদিচ্ছা থাকলে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা অব্যাহত থাকবে। সরকার ও জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এই সংকটের মোকাবিলা সম্ভব বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তারা।
