পরিবারের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে ঢাকা ছাড়তে শুরু করেছে মানুষজন। আজ আনুষ্ঠানিকভাবে ট্রেনে ঈদযাত্রা শুরু হয়েছে, এবং যারা গত ৩ মার্চ অনলাইনে টিকিট সংগ্রহ করেছিলেন, তারা আজ ভ্রমণে বের হয়েছেন। ঈদযাত্রার প্রথম দিনে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে মানুষের ভিড় চোখে পড়ার মতো ছিল। সকাল থেকে স্টেশন এলাকায় বিশাল ঢল নামে যাত্রীদের এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যদের। জায়গায় জায়গায় দেখা গেছে পরিবারভিত্তিক প্রবলসংখ্যক যাত্রীরা, যারা আগেভাগেই বাড়িতে পৌঁছানোর জন্য প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন। বিশেষ করে নারীদের সংখ্যা বেশি দেখা গেছে, যারা সন্তান ও পরিবারের অন্য সদস্যদের সাথে আগের থেকেই ঘরে ফিরতে শুরু করেছেন। ঈদের আনন্দের উচ্ছ্বাস মুখে ও চোখে ফুটে উঠেছে যাত্রীদের মধ্যে। শিশুরাও এই আনন্দের অংশ, তাদের মুখে আনন্দের ঝিলিক ও চোখে স্বপ্নের হাসি দেখা গেছে। ঢাকার একটি স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী সুরাইয়া বলছেন, অনেক দিন পরে গ্রামে যাচ্ছি, দাদা-দাদির সাথে ঈদ করব, এই আনন্দ ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না। অন্য এক যাত্রী মিনাজুল ইসলাম বলেন, ভর্তির ক্লাস বন্ধ থাকায় আগেই বাড়িতে চলে যাচ্ছি। ঈদের পর আবার টেস্ট রয়েছে, সেকারণে এখনই ফিরে যেতে হচ্ছে। তিনি আরও জানিয়েছেন, কয়েকদিনের মধ্যেই ভিড় আরও বাড়বে, তাই আগে থেকেই গ্রামের দিকে রওনা দিয়েছেন। চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনিয়া বলেন, কয়েকদিনের মধ্যে ভিড় আরও বেশি হবে, তখন শিশুদের সাথে বাড়ি যাওয়া কষ্টকর হতে পারে। তাঁর বাবু আব্বু ঢাকায় থাকছেন, তাই ঈদের দুই দিন আগে পরিবারের সকলের সঙ্গে বাড়িতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। অন্য একজন যাত্রী মিতু আক্তার বললেন, পরিবারের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করতে বাড়িতে যাব, এবার কিছু দিন থাকবো। ট্রেনের আওয়াজ ও স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করে অনেক বছর ধরে সামঞ্জস্য করে চলছেন তিনি। স্টেশন এলাকায় নিরাপত্তার জন্য অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন থাকতে দেখা গেছে। তিন স্তরের টিকিট চেকিং কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ার পর যাত্রীরা শান্তিপূর্ণভাবে প্ল্যাটফর্মে প্রবেশ করতে পারছেন। সমগ্র পরিস্থিতিতে ঈদযাত্রাকে কেন্দ্র করে এক আনন্দের আবহ বিরাজ করছে, যাত্রীরা পরিবারের সঙ্গে সুস্থ ও শান্তিপূর্ণ ঈদ উদযাপনের প্রত্যাশা করছেন।

