জ্বালানি সাশ্রয় এবং মধ্যপ্রাচ্যে সংঘটিত যুদ্ধের প্রভাব মোকাবিলার জন্য সরকার গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে সরকারি ও বেসরকারি অফিসের সময়সূচি পরিবর্তন, ব্যয় সংকোচন এবং অন্যান্য খরচ কমানোর প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) রাতে জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব সিদ্ধান্তের তথ্য জানানো হয়। মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি সংবাদ সম্মেলনে বলেন, দীর্ঘ ১৮ ঘণ্টা কাজের চাপের মধ্যে থাকা প্রধানমন্ত্রী যানজট এড়াতে এবং সময় বাঁচাতে এই বৈঠকটি সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
নতুন সিদ্ধান্তের আওতায় এই বিষয়গুলো গুরুত্ব দিয়ে ঘোষণা করা হলো:
– অফিস ও ব্যাংকের সময় পরিবর্তন: সকল সরকারি ও বেসরকারি অফিস আগামী কার্যদিবস থেকে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলবে। ব্যাংকগুলো সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত খোলা থাকবে, তবে প্রয়োজনীয় কাজ শেষ করতে বিকেল ৪টায় বন্ধ হবে।
– বাজার ও বিপণিবিতান: জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংরক্ষণের জন্য সন্ধ্যা ৬টার পর দেশের সব মার্কেট, দোকানপাট ও শপিংমল বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে। তবে কাঁচাবাজার, ওষুধের দোকান ও জরুরি খাবার দোকান এই নির্দেশ থেকে মুক্ত থাকবে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এই বিষয়টি কঠোর মনিটরিং করবে।
– শিক্ষা ও পরিবহন: শিক্ষা মন্ত্রণালয় পৃথক নির্দেশনা দেবে, যা আসন্ন রোববার থেকে কার্যকর হতে পারে। স্কুলগামী শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার কমানোর জন্য এবং যানজট কমাতে ইলেকট্রিক বাস আমদানির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নতুন এই বাসগুলো তেল ও শুল্কে সুবিধা পাবে তবে এ পুরোনো বাস আনা যাবে না।
– ব্যয় সংকোচন ও কৃচ্ছ্রসাধন: সরকারের জ্বালানি, বিদ্যুৎ এবং গ্যাস খাতে ব্যয় ৩০ শতাংশ কমানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আগামী তিন মাসের জন্য সরকারি নতুন গাড়ি ও কম্পিউটার কেনা স্থগিত, পাশাপাশি অপেশাদার বিদেশ ভ্রমণ ও অভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষণ অর্ধেকের বেশি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। সভা-সেমিনারের খরচও অর্ধেক কমানো হয়েছে।
– আলোকসজ্জা: এই সংকটের সময়ে বেসরকারি অনুষ্ঠান বা বিয়ে বাড়িতে আলোকসজ্জা নিষেধ করা হয়েছে।
– আইন সংশোধন: ‘পাবলিক এক্সামিনেশন অফেন্সেস অ্যামেন্ডমেন্ট অ্যাক্ট’ এর খসড়া অনুমোদিত হয়েছে যাতে পাবলিক পরীক্ষায় অপরাধের শাস্তি আরও কঠোর করা যায়।
– জ্বালানি সরবরাহ: মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে তেলের সরবরাহের অনিশ্চয়তা থাকায় সরকার বিকল্প উৎস খুঁজছে। ইতোমধ্যেই মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও কাজাখস্তান থেকে তেল আমদানির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এর পাশাপাশি সরকারের জ্বালানি ভর্তুকি অব্যাহত রয়েছে এবং পরিস্থিতি মোকাবিলায় সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
এগুলো ছাড়াও, সরকার দেশের অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রয়োজনীয় অন্যান্য ব্যবস্থা নিচ্ছেন বলে নিশ্চিত করেছেন সরকারি কর্মকর্তারা।

