গত দুই বছরে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদেরের আয় কমলেও হাতে জমা নগদ টাকা ও সম্পদ দুটোই বেড়েছে। এ তথ্য জানা গেছে, তিনি আসন্ন এ বছরের দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের জন্য রংপুর-৩ আসনের প্রার্থী হিসেবে জমা দেওয়া হলফনামার সঙ্গে ২০২৪ সালের নির্বাচনের হলফনামার তুলনা করে।াক্ষেত্রে তিনি নিজেকে রাজনীতিবিদ ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। গত দিনের হলফনামায় তিনি শেয়ার, সঞ্চয়পত্র ও ব্যাংক আমানত থেকে ১ লাখ ৯০ হাজার টাকা আয় দেখিয়েছেন এবং বিরোধী দলের নেতা হিসেবে ভাতা হিসেবে ২ লাখ ১০ হাজার টাকা উল্লেখ করেছেন।
প্রথম দফার নির্বাচনের এক বছর আগে অর্থাৎ দুই বছর পূর্বে তিনি বাড়ি বা দোকান ভাড়া থেকে ৩ লাখ টাকা, শেয়ার, সঞ্চয়পত্র, ব্যাংক আমানত থেকে ৩০ লাখ টাকা এবং বিরোধী দলের নেতা হিসেবে ভাতা হিসেবে ১১ লাখ টাকার আয় দেখিয়েছিলেন। ওই সময় তার নগদ টাকার পরিমাণ ছিল ৪৯ লাখ ৮৮ হাজার ২৫৩ টাকা এবং ব্যাংকযোমার মধ্যে ছিল প্রায় ৩৬ লাখ টাকা। এছাড়া তার কাছে ছিল ১ লাখ ১২ হাজার সোনা বা মূল্যবান ধাতুর গয়না।
বর্তমানে, হলফনামায় জিএম কাদেরের হাতে নগদ টাকা দেখা গেছে ৬০ লাখ ৩২ হাজার ৪০৫ টাকা। ব্যাংকে জমা টাকার তথ্য তিনি উল্লেখ করেননি; তবে আলাদা কাগজে জমা দেওয়ার কথা বলেছেন। তিনি সঞ্চয়পত্র বা ফিক্সড ডিপোজিটে রয়েছে ৪০ লাখ টাকা। আগের মতোই তার গয়না রয়েছে।
তার স্ত্রী শেরীফা কাদেরের পেশার হিসেবে লেখা হয়েছে সংগীত শিল্পী ও ব্যবসা। দুই বছর আগে তার কাছে নগদ টাকা ছিল ৫৯ লাখ ৫৯ হাজার ৫৬৩ টাকা, এখন তা কমে হয়েছে ৪৮ লাখ ৯০ হাজার ৯৩৮ টাকা।
জিএম কাদেরের অস্থাবর সম্পদের বর্তমান মূল্য দেখানো হয়েছে এক কোটি ৯৫ লাখ টাকা, আর স্ত্রীর সম্পদের মূল্য এক কোটি ৭২ লাখ টাকা।
তিনি লালমনিরহাট ও ঢাকায় নিজের ও স্ত্রীর নামে বাড়ি রয়েছে, যার মূল্য মিলিয়ে প্রায় দেড় কোটি টাকা। জিএম কাদেরের ব্যবহৃত গাড়ির মূল্য ৮৪ লাখ ৯৮ হাজার ৪৭৫ টাকা, আর স্ত্রীর গাড়ি ৮০ লাখ টাকার।
জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের নামে ফৌজদারি মামলা রয়েছে মোট ১২টি, যা এখনো তদন্তাধীন। ব্যক্তিগত ঋণের পরিমাণ ১২ লাখ টাকা।
উল্লেখ্য, হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের মৃত্যুর পরে পার্টির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণ করেন তার ছোট ভাই জি এম কাদের। তিনি ছয় বার জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন, যেখানে একবার তিনি পরাজিত হন। এই খবরের জন্য গঠিত হয়েছে আজকালের খবর।

