গাজা উপত্যকার উপর ইসরায়েলি বাহিনীর হামলা আবারও দখল নিয়েছে পরিস্থিতি। যুদ্ধবিরতি চুক্তি থাকার পরও শনিবার পৃথক স্থানগুলোতে ইসরায়েলি সেনাদের গুলিতে এক শিশু নিহত এবং বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। বার্তা সংস্থা আনাদোলু সূত্র জানিয়েছে, উত্তর গাজার জাবালিয়া আল-নাজলা এলাকায় ইসরায়েলি সেনাদের গুলিতে ১১ বছর বয়েসী এক শিশুর মৃত্যু হয়। আহত হয়েছেন আরও অন্তত চারজন, তাদের চিকিৎসা নেওয়া হচ্ছে স্থানীয় হাসপাতালে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসে নেমসাউই কবরস্থানের কাছে হামলায় এক শিশু ও এক নারীসহ মোট চারজন আহত হয়েছেন। আহতদের দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা শুরু হয়েছে।
গত ১০ অক্টোবরের পর থেকে চলে আসা অস্ত্রবিরতি লঙ্ঘন করে এই হামলা চালানো হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক সমালোচনার মুখে পড়ে। গাজা সরকারের হিসাব অনুযায়ী, ইতিমধ্যেই এই সংঘর্ষে অন্তত ৪১৬ জন ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন এবং আরও ১১১০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। গত দুই বছরে এই দীর্ঘ সংঘাতে নিহতের সংখ্যা ৭১ হাজারের বেশি, যাদের মধ্যে বেশিরভাগই নারী ও শিশু। আহতের সংখ্যা আরও বেশি, ১ লাখ ৭১ হাজারের বেশি মানুষ।
এদিকে, গাজা সিটিতে ঘটে যাওয়া আরেকটি দুর্ঘটনায় এক মা ও তার শিশুর মৃত্যু হয়েছে। মধ্য গাজার আল-দারাজ এলাকার আল-ইয়ারমুক আশ্রয়শিবিরে একটি তাঁবুতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এই হতাহতের ঘটনা ঘটে। সিভিল ডিফেন্স জানিয়েছে, ঘটনাস্থলে পুড়ে যাওয়া অংশের কারণ এখনও জানাযায়নি।
আশ্রয়শিবিরগুলোতে অগ্নিকাণ্ডের এই ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে, কারণ দীর্ঘদিন ধরে চালানো হত্যাকাণ্ডের ফলে গাজার বিশাল জনবসতি ধ্বংসের দাগে আকীর্ণ। বিদ্যুৎ না থাকায় জ্বালানি সংকট তীব্র হয়ে উঠছে, ফলে রান্না ও তাপ দেওয়ার জন্য বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে স্থীরারবস্থাপকরা। লাখ লাখ ফিলিস্তিনি এখন অস্থায়ী তাঁবুতে বসবাস করছেন, যেখানে অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি দিন দিন বাড়ছে।

