আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নিরাপত্তার কারণে ভারতেই না খেলার সিদ্ধান্তকে সমর্থন জানিয়ে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) আইসিসিকে একটি চিঠি পাঠিয়েছে। এই চিঠিটি আইসিসি ছাড়াও অন্যান্য সদস্য দেশকে পাঠানো হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে ক্রীড়ানির্ভর ওয়েবসাইট ইএসপিএন ক্রিকইনফো।
বিসিবি দীর্ঘদিন ধরে নিরাপত্তাজনিত কারণে ভারত যাচাই-পর্যালোচনার বাইরে রাখার অবস্থান জোরালোভাবে তুলে ধরেছে। কিন্তু আইসিসি চাইছে বাংলাদেশ তার নির্ধারিত ভেন্যুগুলোতেই খেলুক, সেই লক্ষ্য রাখতে বিসিবিকে রাজি করানোর চেষ্টা চলছে। তাতে ভেনু বা গ্রুপ পরিবর্তনের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনার জল্পনা উঠেছে।
কিন্তু বিশ্বকাপের অনিশ্চয়তা বাড়ার সময়ে পাকিস্তান যে-বিষয়ে বাংলাদেশকে সমর্থন জানালো, সেটি অনেকের নজর কাড়েছে। পিসিবির মেইলটি আইসিসির সিদ্ধান্ত প্রক্রিয়ায় কতটা প্রভাব ফেলবে তা এখনও স্পষ্ট নয়; তবে বিশ্লেষকরা মনে করেন তা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বদলে দেয়া কঠিন।
ক্রিকইনফোর খবরে বলা হয়েছে, ভেন্যু বা সূচি পরিবর্তনের সম্ভাবনা తত্পর নয়। গত সপ্তাহে আইসিসি ও বিসিবির একাধিক সভায় উভয়পক্ষই তাদের অবস্থান পুনরায় জোরালো করেছে এবং তখন থেকেই কোনো সুবিধাজনক সমাধান বের হয়নি। আইসিসি এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য ২১ জানুয়ারি পর্যন্ত সময় বেঁধে রেখেছে বলে উল্লেখ করা হলেও বিসিবি তা আগে থেকেই অস্বীকার করেছে—তারা বলেছে আইসিসির কাছ থেকে তাদের কাছে কোনো নির্দিষ্ট ডেডলাইন পৌঁছায়নি।
অনিচ্ছুকতা না মিটলেও বিশ্বকাপ আর বেশি দূরে নেই। ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ভারত ও শ্রীলঙ্কায় মিলে মেগা টুর্নামেন্ট শুরু হবে। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী বাংলাদেশের চার ম্যাচ—তিনটি কলকাতায় এবং একটি মুম্বাইয়ে হওয়ার কথা।
উল্লেখ্য, গত বছর থেকেই পাকিস্তান নিজেদের ভারত যেতে অস্বীকার করেছিল। ফলে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে ম্যাচ আয়োজন হাইব্রিড মডেলে বা নিরপেক্ষ ভেন্যুতে করার মতো সমাধান করা হয়। একই প্রেক্ষিতে বাংলাদেশের ভারতে না যাওয়ার সিদ্ধান্তে পাকিস্তানের সমর্থন অবশ্য পরিস্থিতিতে অভিনব নাটকীয়তা যোগ করেছে। অনেকে গুঞ্জন করেছড়েছে যে Bangladesh-এর ম্যাচ পাকিস্তানে সরিয়ে নেওয়া হতে পারে কিংবা বাংলাদেশ না খেললে পাকিস্তানও তাদের নিজ সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতে পারে, তবে এসব আলোচনা এই পর্যায়ে গুঞ্জনই থেকে গেছে এবং পিসিবি আনুষ্ঠানিকভাবে এসব বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেনি।
সর্বশেষ, আইসিসির সঙ্গে বিসিবির আলোচনায় দুই পক্ষই এখনও তাদের অবস্থান থেকে সরে আসেনি; ফলে বিশ্বকাপে বাংলাদেশ অংশগ্রহণ নিশ্চিত হবে কি না—এটি এখনো অনিশ্চিত অবস্থায়।
(সংবাদ: আজকের খবর/এমকে)

