বিশ্ব অর্থনীতির অস্থিরতা ও ঝুঁকির মধ্যে প্রথমবারের মতো সোনার দাম আউন্সপ্রতি ৪ হাজার ৭শর ডলার পার করে নতুন ইতিহাস রচনা করেছে। বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে স্বর্ণের দিকে ধেয়ে আসায় বাজারে মূল্য বেড়ে যাচ্ছে।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) স্পট মার্কেটে সোনার দাম শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে আউন্সপ্রতি ৪ হাজার ৬৯৯ দশমিক ৯৩ ডলারে পৌঁছায়। লেনদেনের এক পর্যায়ে 가격 ৪ হাজার ৭০১ দশমিক ২৩ ডলারে উঠলে তা সর্বকালের সর্বোচ্চ রেকর্ড গড়ল।
বিশ্ববাজারে ট্রাম্প প্রশাসনের কড়া বাণিজ্য নীতি ও ইউরোপীয় দেশগুলোর ওপর শুল্ক আরোপের হুমকি—এসব অস্থিরতার ঘটনায় বিনিয়োগকারীরা সোনা ও রুপাকে নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে বেছে নিচ্ছেন। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুধু সোনা নয় রুপার দামও লেনদেন শুরুতে রেকর্ড স্পর্শ করে, যা ছিল ৯৪ দশমিক ৭২ ডলার।
আর্থিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব গ্রহনের পর গত এক বছরের মধ্যে সোনার দাম প্রায় ৭০ শতাংশেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। মার্কিন নীতিনির্ধারণীর ‘বিঘ্নকারী’ সিদ্ধান্ত ও ফেডারেল রিজার্ভের ওপর হস্তক্ষেপের প্রয়াস বিশ্ববাজারে আস্থাহীনতা তৈরি করেছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে সোনার কদর বাড়ায়।
কেসিএম ট্রেডের প্রধান বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার জানিয়েছেন, ট্রাম্পের প্রচলিত রাজনৈতিক ধাঁচ থেকে সরে গিয়ে নেয়া সিদ্ধান্তগুলো মূল্যবান ধাতুদের জন্য অনুকূল প্রমাণিত হয়েছে। পাশাপাশি মার্কিন সুপ্রিম কোর্টে ফেডারেল রিজার্ভের গভর্নরকে বরখাস্ত করার মামলা সংক্রান্ত শুনানির আশঙ্কাও বিনিয়োগকারীদের উদ্বিগ্ন করে তুলেছে এবং সোনার দর বাড়ানোর ক্ষেত্রে সহায়ক ভূমিকা রেখেছে। যদিও ট্রাম্প বারবার সুদের হার কমানোর আহ্বান জানাচ্ছেন, বাজারে অবিলম্বে পরিবর্তনের সম্ভাবনা কম; পরবর্তী ফেড বৈঠকে হার অপরিবর্তিত থাকার সম্ভাবনাই বেশি বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অর্থনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিক সংকটের সময়সীমায় সোনার মতো নিরাপদ সম্পদের চাহিদা বাড়া স্বাভাবিক; এ কারণেই এ দর বৃদ্ধি পাচ্ছে। অন্যদিকে বিশ্বের কিছু বাজারে প্লাটিনাম ও প্যালাডিয়ামের দাম খানিকটা নেমে গেছে। সোনার দাম আকাশচুম্বী হওয়ায় সাধারণ ক্রেতাদের জন্য এটি ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাওয়ার শঙ্কাও দেখা দিয়েছে।
আজকের খবর/বিএস

