আগামীকাল শুক্রবার হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্যতম পবিত্র উৎসব শ্রী শ্রী সরস্বতী পূজা অনুষ্ঠিত হবে। পঞ্চমী তিথিতে অগণিত ভক্ত দেবী সরস্বতীর চরণে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে বিদ্যা ও জ্ঞানার্জনের জন্য প্রার্থনা করবেন। অনেকে অজ্ঞতার অন্ধকার সরিয়ে আলোকিত জীবনের কামনায় প্রণাম জানাবেন।
সনাতন ঐতিহ্য অনুসারে দেবী সরস্বতী সত্য, ন্যায় ও জ্ঞানের প্রতীক; তিনি বিদ্যা, বাণী এবং সঙ্গীতের অধিষ্ঠাত্রী। ভক্তেরা ‘‘সরস্বতী মহাভাগে বিদ্যে কমললোচনে…’’ মন্ত্র উচ্চারণ করে তাঁর আশীর্বাদ প্রার্থনা করবেন, যাতে শিক্ষা ও জ্ঞান অর্জনে সুফল মেলে।
সরস্বতী পূজা উপলক্ষে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বিশেষ বাণী প্রদান করেছেন। তিনি হিন্দু সম্প্রদায়ের সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিকে একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে উল্লেখ করেছেন। বাণীতে তিনি বলেছেন, দীর্ঘকাল ধরে এই জমি—জাতি, ধর্ম ও বর্ণ নির্বিশেষে—সবাই মিলেমিশে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করছে এবং বাংলাদেশ সকলের নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ আবাসভূমি।
পূজার দিন হিন্দু সম্প্রদায় বিশেষ করে শিক্ষার্থীরা বাণী পাঠ, আরাধনা ও নানা ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন করবে। ঢাকাসহ দেশের সবার মন্দির ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পুষ্পাঞ্জলি, প্রসাদ বিতরণ, ধর্মীয় আলোচনাসভা, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, সন্ধ্যা আরতি ও আলোসজ্জার মতো নানা কর্মসূচি পরিচালিত হবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সরস্বতী পূজার প্রস্তুতি পূর্ণতা পেয়েছে। জগন্নাথ হল কেন্দ্রীয়ভাবে আয়োজন করে মোট ৭৬টি মণ্ডপে পূজার আয়োজন করা হয়েছে; এর মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭৪টি বিভাগ ও ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীরাও অংশগ্রহণ করবেন। দুই দিনব্যাপী এই আয়োজনে থাকবে পুষ্পাঞ্জলি, প্রসাদ বিতরণ, মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা ও রক্তদান কর্মসূচি। শিশু ও কিশোরদের বিনোদনের জন্য হল অভ্যন্তরে বিভিন্ন রাইড, খেলনা ও স্বাস্থ্যসম্মত খাবারের দোকান রাখা হবে।
জগন্নাথ হলের প্রাধ্যক্ষ দেবাশীষ পাল বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন ও শিক্ষা), কোষাধ্যক্ষ ও প্রক্টরের সহায়তায় হল প্রশাসন কেন্দ্রীয় পূজামণ্ডপ থেকে শুরু করে পুরো হল প্রাঙ্গণের নিরাপত্তা জোরদার করতে কাজ করছে। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ, জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই), শাহবাগ থানা এবং ফায়ার সার্ভিস প্রয়োজনীয় কার্যতাত্ত্বিক ও কারিগরি সহায়তা প্রদান করছে।
এছাড়া ঢাকা রামকৃষ্ণ মঠ ও রামকৃষ্ণ মিশন, সিদ্ধেশ্বরী মন্দির, শাঁখারী বাজার, তাঁতি বাজার, বনানী ও রমনা কালী মন্দিরসহ শহরের নানা মণ্ডপে সকাল-সন্ধ্যা আরতি ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা থাকবে। আলোচনা সভা, ঢাক-ঢোল-কাঁসর, শঙ্খ ও উলুধ্বনিতে এসব মণ্ডপ ভলবর্ভাবে প্রাণবন্ত হয়ে উঠবে।
আজকালের খবর/বিএস

