নির্বাচনী কার্যক্রমে পরিবর্তন এবং প্রার্থীর সংখ্যার বৃদ্ধি কারণে এবার ভোট গণনায় স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছেন সকালকারই নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ।
সচিব জানান, এবারে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটারদের দুটি ভিন্ন ধরনের ব্যালট ব্যবহার করতে হবে — প্রবাসীদের জন্য পোস্টাল ব্যালট এবং অভ্যন্তরীণ ভোটারদের জন্য সাধারণ ব্যালট। এছাড়া সারাদেশে প্রার্থীর সংখ্যা পুরনো নির্বাচনের তুলনায় অনেক বেশি হওয়ায় ভোটগ্রহণ ও ভোট গণনায় সময় বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে মোবাইল অপারেটর, ব্যাংক ও বিএনসিসি কর্মকর্তাদের সঙ্গে পৃথক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, “দুটি ধরনের ব্যালট ও অধিক প্রার্থীর কারণে বিশেষ করে রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে পোস্টাল ব্যালট গণনা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।”
সচিব উদাহরণ দিয়ে বলেন, ফেনী-৩ আসনে ১৬,০৩৮ জন, চট্টগ্রাম-১৫ আসনে ১৪,২৭৪ জন এবং কুমিল্লায় ১৩,৯৩৯ জন ভোটার পোস্টাল ভোটারে নিবন্ধিত হয়েছেন। যেখানে একটি কেন্দ্রের স্বাভাবিক ভোটার সংখ্যা প্রায় ৩ হাজার, সেখানে পোস্টাল ব্যালটের চাপ সাধারণত ৫–৬ গুণ বেশি হওয়ায় ফল ঘোষণা বিলম্বিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
আখতার আহমেদ আরও জানান, এবারের নির্বাচনে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ ও সংবাদ নিয়োগ উল্লেখযোগ্য হবে। ইসি ৮৩টি আন্তর্জাতিক সংস্থাকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিল এবং এদের মধ্যে ৩৬টি সংস্থা পর্যবেক্ষণে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করেছে।
তিনি বলেন, “ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বর্তমানে ঢাকায় ৫৬ জন প্রতিনিধি রয়েছেন; এই সংখ্যা বাড়তে পারে, আনুমানিক ২৭৫ থেকে ৩০০ জন পর্যবেক্ষক পর্যন্ত পৌঁছে যেতে পারে। এছাড়া কমনওয়েলথ থেকে ১০ জন এবং তুরস্ক থেকে ৯ জন প্রতিনিধি আসার কথা রয়েছে। সব মিলিয়ে প্রায় ৫০০ জন বিদেশি পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিক এখানে থাকবেন।” পর্যবেক্ষকদের সুবিধার্থে অন-অ্যারাইভাল ভিসার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে বলে জানান তিনি।
নির্বাচনে কালো টাকার প্রভাব কমাতে মোবাইল ব্যাংকিং নিয়ন্ত্রণ ও সীমা সংক্রান্ত আলোচনা হয়েছে। সচিবের কথায়, “পুরোপুরি মোবাইল ব্যাংকিং বন্ধ করার পরিকল্পনা নেই। তবে লেনদেনের ওপর সীমা নির্ধারণ করা হতে পারে। আই-ব্যাংকিং ক্ষেত্রেও একই নীতি প্রযোজ্য হতে পারে।”
প্রার্থীসংখ্যা সম্পর্কেও তিনি তথ্য দেন। গত রাত পর্যন্ত প্রার্থী সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১,৯৮১ জনে। এর মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী ২৪৯ জন এবং নারী প্রার্থী ৭৬ জন। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বিএনপি সর্বোচ্চ ২৮৮ জন প্রার্থী দিয়েছে। সবচেয়ে বেশি প্রার্থী (১৫ জন) রয়েছেন ঢাকা-১২ আসনে এবং সবচেয়ে কম—দুই জন—পিরোজপুর-১ আসনে।
সংক্ষিপ্তভাবে, দুই ধরনের ব্যালট ব্যবহারের জটিলতা, প্রার্থীসংখ্যার বৃদ্ধি ও পোস্টাল ভোটের চাপকে মাথায় রেখে ফল ঘোষণা ও গণনায় যথেষ্ট সময় রাখা হবে বলেই ইসি সচিবের সতর্কবার্তা।
(আজকালের খবর/ এমকে)

