এই নির্বাচনকালীন সময়ে ভোট গণনা কিছুটা সময় বেশি লাগতে পারে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ। এ বছর জাতীয় সংসদ নির্বাচন দুটির ব্যালটের মাধ্যমে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে, যার কারণে সময়ের চাহিদা কিছুটা বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভবনা রয়েছে। এছাড়া, দেশের বিভিন্ন প্রার্থীসংখ্যাও এবার বেশি। এই সব বিষয় বিবেচনা করে তিনি উল্লেখ করেন, ভোট গণনা ও ফলাফল প্রকাশে কিছুটা বিলম্ব হতে পারে।
সচিব আরও জানান, এবার প্রবাসী ভোটারদের জন্য এবং অভ্যন্তরীণ ভোটারদের জন্য ভিন্ন ধরনের ব্যালট ব্যবহার করা হচ্ছে। দুটি ব্যালটের কারণে এবং অধিক সংখ্যক প্রার্থীর জন্য ভোট গণনায় সময় আরও বাড়বে। বিশেষ করে, পোস্টাল ব্যালটের গণনায় বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ দেখা দিতে পারে, যেমন ফেনী-৩ আসনে ১৬ হাজার ৩৮ ভোটার, চট্টগ্রাম-১৫ আসনে ১৪ হাজার ২৭৪ জন এবং কুমিল্লায় ১৩ হাজার ৯৩৯ জন পোস্টাল ভোটার নিবন্ধিত হয়েছেন। একটি কেন্দ্রে যেখানে ৩ হাজার ভোটার থাকেন, সেখানে পোস্টাল ভোটের চাপ অনেক বেশি, যা ফলাফল প্রকাশে দেরি সৃষ্টি করতে পারে।
সচিব জানান, আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের উপস্থিতিও বাড়ছে। ইসি এড়িয়ে ৮৩টি সংস্থাকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিল, এর মধ্যে ৩৬টি নিশ্চিত হয়েছে। এখন ইউরোপীয় ইউনিয়নের ৫৬ জন প্রতিনিধি ঢাকায় থাকলেও সংখ্যাটি বাড়তে পারে ২৭৫ থেকে ৩০০ জনে। এছাড়া, কমনওয়েলথ থেকে ১০ জন ও তুরস্ক থেকে ৯ জন প্রতিনিধি আসার কথা রয়েছে। সব মিলিয়ে প্রায় ৫০০ বিদেশি পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিক নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করবেন, তাদের জন্য অন-অ্যারাইভাল ভিসার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
নির্বাচনে কালো টাকা নিয়ন্ত্রণে মোবাইল ব্যাংকিং ব্যবহারের আলোচনা হয়েছে। সচিব জানিয়েছেন, পুরোপুরি শাটডাউন বা বন্ধের পরিকল্পনা নেই, তবে লেনদেনের ওপর সীমা আরোপের কথা ভাবা হচ্ছে। একই নীতি আই-ব্যাংকিংয়ে অনুসরণ হতে পারে।
অতীতে নির্বাচনে প্রার্থীর সংখ্যা বাড়ছে। গতকাল রাত পর্যন্ত প্রার্থীর সংখ্যা দাঁড়িয়ে গেছে ১ হাজার ৯৮১ জনে। এর মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী ২৪৯ জন এবং নারী প্রার্থী ৭৬ জন। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বিএনপি সর্বোচ্চ ২৮৮ জন প্রার্থী দিয়েছে। ঢাকা-১২ আসনে সর্বোচ্চ ১৫ জন এবং পিরোজপুর-১ আসনে সর্বনিম্ন ২ জন প্রার্থী দাঁড়ায়।
