জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি আগাম নির্বাচন ঘোষণা করে দেশের নিম্নকক্ষ সংসদ বিলুপ্ত করেছেন। নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ৮ ফেব্রুয়ারি।
সংসদের স্পিকার শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) একটি চিঠি পাঠ করে আনুষ্ঠানিকভাবে নিম্নকক্ষ বিলুপ্তির ঘোষণা দেন। ঘোষণার সময় আইনপ্রণেতারা ঐতিহ্যবাহী ‘বাঞ্জাই’ স্লোগান দিয়ে সাড়া দেন। ৪৬৫ সদস্যের নিম্নকক্ষ বিলুপ্তি দিয়ে এখন আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রচারণার পথ মিশে গেছে — প্রচারণা আগামী মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) থেকে শুরু করে ১২ দিন চলবে।
সানায়ে তাকাইচি গত সোমবার (১৯ জানুয়ারি) এই আগাম নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা ঘোষণা করেছিলেন। গত বছরের অক্টোবরেই জাপানের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়া তাকাইচি মাত্র কয়েক মাসে এই সিদ্ধান্ত নিলেন; তবু জরিপে দেখা গেছে তার ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা প্রায় ৭০ শতাংশ।
তাকাইচি আশা করেন নিজের ব্যক্তিগত সমর্থন কাজে লাগিয়ে সাম্প্রতিক বছরগুলিতে জনসমর্থন হারানো শাসক জোটকে পুনরায় শক্ত অবস্থানে নিয়ে আসা যাবে। বর্তমানে তার নেতৃত্বাধীন লিবারাল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি (এলডিপি) ও জাপান ইনোভেশন পার্টি (জেআইপি) সমন্বিত জোটের নিম্নকক্ষে মাত্রই সীমিত সংখ্যাগরিষ্ঠতা আছে।
তসুকুবা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতি বিষয়ে প্রফেসর হিদেহিরো ইয়ামামোতো বলেন, তাকাইচি মন্ত্রিসভার উচ্চ জনমত আসলে এলডিপির সমর্থন বাড়াবে কিনা তা এখনও স্পষ্ট নয়। ভোটারদের কাছে মূল বিচার্য হবে সরকার মূল্যস্ফীতি মোকাবিলায় কীভাবে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারে।
জাপানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার সংস্থা এনএইচকে বলেছে, এবারের নির্বাচনী প্রচারণার প্রধান বিষয় হবে মূল্যস্ফীতি মোকাবিলা ও চীনের সঙ্গে বাড়তে থাকা উত্তেজনার প্রসঙ্গে নিরাপত্তা নীতি। গত নভেম্বরে তাকাইচি বলেছিলেন, যদি চীন তাইওয়ানে সামরিক পদক্ষেপ নেয় তাহলে জাপান তাতে জড়িয়ে পড়তে পারে — সেই মন্তব্যের পর থেকে টোকিও ও বেইজিং কূটনৈতিক উত্তাপে জড়িয়েছে। বেইজিং তাইওয়ানকে নিজেদের অংশ হিসেবে দাবি করে।
তথ্যসূত্র: আনাদলু এজেন্সি
আজকালের খবর/বিএস

