শ্রীশ্রী সরস্বতী পূজা আজ দেশজুড়ে উদযাপিত হচ্ছে। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান উৎসবগুলোর মধ্যে অন্যতম এই দিনটি বিদ্যা ও সংগীতের দেবী সরস্বতীর আরাধনায় উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি করে। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী মাঘ মাসের শুক্লা পঞ্চমী তিথিতে দেবী সরস্বতী শুভ্র রাজহাঁসে চড়ে পৃথিবীতে অবতীর্ণ হন এবং ভক্তরা পুষ্পার্ঘ্য দিয়ে তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন।
শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) সারাদেশের মন্দির, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বাড়িতে বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে পূজো চলছে। অনেকে দেবীর চরণে প্রণতি জানিয়ে অজ্ঞতার অন্ধকার দূর করে কল্যাণ কামনা করেন। বিশেষত শিশুদের জন্য আজ হ’লের হাতেখড়ি—চিঠি-কলম রাখার মাধ্যমে শিক্ষার প্রতি উদ্বুদ্ধ করার প্রচলিত অনুষ্ঠানও জনপ্রিয়।
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বাসুদেব ধর জানিয়েছেন, ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে সকাল ১০টায় কেন্দ্রীয় পূজা অনুষ্ঠিত হবে। ঢাকেশ্বরী মন্দিরসহ দেশের বিভিন্ন পূজামণ্ডপে ভক্তরা সকালের দিকে ফুল-অঞ্জলি ও প্রার্থনায় অংশ নিচ্ছেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জগন্নাথ হল প্রশাসনের আয়োজনে এবছর কেন্দ্রীয় পূজা সহ মোট ৭৬টি মণ্ডপে পূজার আয়োজন করা হয়েছে। এর মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭৪টি বিভাগ ও ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীরা সরাসরি অংশ নিচ্ছেন। জগন্নাথ হলে সকাল ৯টা থেকে ১১টা পর্যন্ত পুষ্পাঞ্জলি অনুষ্ঠিত হবে, এরপর প্রসাদ বিতরণ ও আগত অতিথিদের আপ্যায়ন হওয়ার কথা রয়েছে।
জগন্নাথ হলের পুরো মাঠজুড়ে বিভিন্ন বিভাগ ও ইনস্টিটিউট মণ্ডপ তৈরি করেছে। চারুকলা ইনস্টিটিউট পুকুরে মণ্ডপ তৈরি করে অংশ নিয়েছে, উপাসনালয়ে হল প্রশাসন এবং পুকুরপাড়ে কর্মকর্তাদের ও কর্মচারীদের সংগঠনের পক্ষ থেকে একটি মণ্ডপ করা হয়েছে।
হল প্রশাসন জানায়, নিরাপত্তার স্বার্থে পুরো এলাকা সিসি ক্যামেরার আওতায় রাখা হবে এবং প্রবেশপথে মেটাল ডিটেক্টরসহ আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে। দর্শনার্থীদের সুবিধার জন্য হলে শিশু-কিশোরদের বিনোদনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে; বিভিন্ন রাইড, খেলনা ও খাবারের স্টলস থাকবে যাতে পরিবারসহ আগতরা আনন্দে অংশ নিতে পারেন।
পূজার শেষে ভক্তরা দেবীর আশীর্বাদ নিয়ে ঘরে ফিরে প্রশান্তি অনুভব করবেন এবং অনেকেই নতুন শিক্ষাজীবনের প্রতিশ্রুতি নিয়ে হাতেখড়ি অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন। উৎসব-আনন্দে আজকের দিনটি সংস্কৃতি ও শিক্ষার মিলনক্ষেত্র হয়ে উঠেছে।
(সূত্র: আজকালের খবর/বিএস)

