ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা (ডিবি) প্রধান অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম বলেছেন, কারওয়ান বাজারে আধিপত্য বিস্তার ও চাঁদাবাজি নিয়েই স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা আজিজুর রহমান মুছাব্বিরকে হত্যা করা হয়েছে। তিনি এই তথ্য আজ শনিবার (২৪ জানুয়ারি) সকালে মিন্টু রোডের ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে জানান।
ডিবি প্রধান জানিয়েছেন, কারওয়ান বাজার এলাকায় প্রকাশ্যে ও গোপনে চাঁদা আদায়ে আট থেকে নয়টি সিন্ডিকেট সক্রিয় আছে। এসব সিন্ডিকেটের মধ্যে চলা বিবাদ এবং চাঁদার অর্থ নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে দিলীপ ওরফে ‘বিনাশ’ নামে পরিচিত এক ব্যক্তির নির্দেশে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা পুলিশের।
শফিকুল ইসলাম বলেন, মুছাব্বির—যিনি স্বেচ্ছাসেবক দল ঢাকা উত্তর সিটি ইউনিটের সাবেক সাধারণ সম্পাদক—কে ৭ জানুয়ারি কাজী নজরুল ইসলাম অ্যাভিনিউয়ের পাশে একটি গলিতে গুলি করে হত্যা করা হয়। হত্যার পরদিন তার স্ত্রী তেজগাঁও থানায় চার থেকে পাঁচজন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা করেন।
ডিবি সূত্রে জানা গেছে, এ কাণ্ডে এখন পর্যন্ত পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে ১১ জানুয়ারি গ্রেপ্তার হন জিন্নাত (২৪), আবদুল কাদির (২৮), মো. রিয়াজ (৩১) ও মো. বিলাল। গত শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) নরসিংদীর মাধবদী থেকে কথিত শুটার মো. রহিমকে গ্রেপ্তার করা হয়।
মাধবদীর শাহজাহান খলিফার ভাড়াবাড়ি থেকে তল্লাশি চালিয়ে দুইটি বিদেশি পিস্তল, দুইটি ম্যাগাজিন ও ১২ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। এই সংক্রান্তে মাধবদী থানায় অস্ত্র আইনে একটি মামলা করা হয়েছে।
ডিবি প্রধান আরও জানান, গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে একজন ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। তাদের কথায় উঠে এসেছে, “দাদা আছে, দাদা দেখবে” — যার ইঙ্গিত দেয় যে কেউ নির্দেশ দিচ্ছিলেন। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে রহিম ও জিন্নাত একসঙ্গে দৌড়াচ্ছিলেন এবং তাদের দু’জনই গুলি চালিয়েছেন।
শফিকুল বলেন, কারওয়ান বাজারে চাঁদাবাজির কোনো কেন্দ্রভিত্তিক রাজনৈতিক দল নেই; বরং বিভিন্ন নামে ৮-৯টি গ্রুপ চাঁদা তুলছে। এই সিন্ডিকেটগুলো ভেঙে দিতে ডিবি অভিযান চালাবে এবং শিগগিরই কার্যক্রম শুরু করা হবে।
ডিবি প্রধান জানান, যিনি ‘বিনাশ’ নামে পরিচিত, তিনি আন্ডারওয়ার্ল্ডের একজন অনুগত এবং বর্তমানে দেশের বাইরে রয়েছেন। তার রাজনৈতিক পরিচয় নির্ধারণ করা যায়নি, তবে প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের সঙ্গে তার সম্পর্ক আছে এবং হত্যার নির্দেশনায় তার হাত রয়েছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, গ্রেপ্তার হওয়াদের মধ্যে অনেকেই ভাড়াটে সন্ত্রাসী; তবু কারওয়ান বাজারে তারা চাঁদাবাজির সঙ্গে সরাসরি জড়িত ছিল। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ডিবি আরও অভিযান ও আইনি ব্যবস্থা নেবে। এই মাসেই তারা প্রায় তেরোটি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করেছে এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে ডিবি প্রধান মনে করিয়ে দিয়েছেন যে সামনে নির্বাচনের সময় বন্ধু-বৈরী যারা দেশের অস্থিতিশীলতা চান, তারা সক্রিয় হতে পারে। তাই এ ধরনের সিন্ডিকেট ভাঙতে এবং শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে দায়িত্বশীলভাবে কাজ করা হবে।
করোনা-পরবর্তী ও অর্থনৈতিক কেন্দ্রীভূত নাগরিক এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিতে পুলিশের পদক্ষেপ বাড়ানো হবে বলেও তিনি জানান। হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে জড়িতদের শনাক্ত ও দণ্ড নিশ্চিত করতে ডিবি তদন্ত চ্যানেলগুলো দ্রুততর করছে।
আজকের বিষয়: মুছাব্বির হত্যাকাণ্ডে তদন্ত চলমান; অভিযানে আরও গ্রেপ্তার ও চ্যানেল সম্প্রসারণের আশ্বাস দিয়েছে ডিবি।
