ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক খেলায় মূল চালিকা শক্তি ছিলেন রাজশাহীর ব্যাটসম্যানরা। মিরপুর শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে চট্টগ্রাম অধিনায়ক শেখ মেহেদী হাসান রাজশাহীকেই ব্যাট করার আমন্ত্রণ জানালেন। ব্যাটিংয়ে নেমে রাজশাহী শক্ত ভিত্তি করে ২০ ওভারে ১৭৪ রান তুললো।
ওপেনিং জোড়ে তানজিদের ঝড় এবং সাহিবজাদার ধৈর্যশীল বেটিংয়ে প্রথম উইকেটে আসে ৮৩ রানের জুটি। ফারহান ৩০ বল খেলে ৩০ রান করে ফিরলেও তানজিদ ম্যাচ কন্ঠে একাই পুরো দলকে সামনে করে নেন। সঙ্গে ছিলেন কেন উইলিয়ামসন, যিনি শরিফুল ইসলামের বলে ১৫ বলে ২৪ করে আউট হন। দলনেতা নাজমুল হোসেন শান্তও কিছু সময় ব্যাট হাতে ছিলেন, তবে তিনি ব্যক্তিগতভাবে ১১ রান করেই সাজঘরে ফেরেন। জিমি নিশাম অপরাজিত ছিলেন ৭ রানে।
ওপেনার তানজিদ হাসান তামিমের ইনিংস ছিল আজকের ম্যাচের নির্ধারক। ফিফটির পর আরও ঝাঁপিয়ে তুলে তিনি সেঞ্চুরি ফেরী করতে সফল হন — এবারের বিপিএলের এটি চতুর্থ সেঞ্চুরি এবং বিপিএলের ফাইনালে তৃতীয় সেঞ্চুরি হিসেবে তানজিদের নাম যোগ হলো (আগে ফাইনালে সেঞ্চুর করেছেন ক্রিস গেইল ও তামিম ইকবাল)। তিনি ৬২ বল খেলে ১০০ রানে আউট হন, এই অসাধারণ ইনিংসে ছিল ছয়টি চার ও সাতটি ছয়।
জবাবে রান তাড়া করতে নেমে চট্টগ্রাম শুরুতেই চাপের মুখে পড়ে। দলীয় মাত্র ১৮ রানে প্রথম দুই ব্যাটারের বিদায় ঘটলে তাদের উপর চাপে পড়ে দল। ওপেনার মোহাম্মদ নাঈম ১০ বল খেলে ৯ রান করতে পারলে মাহমুদুল হাসান জয় কোনো রান করতে পারেননি। হাসান নেওয়াজ দ্রুতই ৭ বলে ১১ করে দলের চেষ্টা একটু তেঁতুলাতে চেষ্টা করেন।
চতুর্থ উইকেটে জাহিদুজ্জামান ও মির্জা বেগ কিছুটা লড়াই করলেও ধীরগতির ব্যাটিংয়ে তারা চাপ সৃষ্টি করতে পারেননি। জাহিদুজ্জামান ১৩ বলে ১১ রান করে ফেরেন, আর মির্জা বেগ ৩৬ বলে ৩৯ করে আউট হন। পরে আসিফ আলী এবং আমির জামাল আক্রমণাত্মকভাবে চেষ্টা করলেও দীর্ঘসময় ক্রীজে থাকতে পারেননি—আমির ৮ রানে আউট হন, আসিফ ১৬ বল খেলে ২১ রান করে ফিরে যান। দলের বাকি ব্যাটসম্যানদের ছোট ছোট ইনিংসে চট্টগ্রাম নির্ধারিত লক্ষ্য থেকে অনেক দূরে থেমে যায় এবং তারা মাত্র ১১১ রানে অলআউট হয়ে যায়।
চট্টগ্রামের পক্ষে সফল বোলার ছিলেন শরিফুল ইসলাম ও মুকিদুল ইসলাম; দুজনেই দুটি করে উইকেট নেন। কিন্তু রাজশাহীর তাদের বাঁহাতি পেসার বিনুরা ফার্নান্দো হচ্ছেন ম্যাচের সেরা বোলার—৩ ওভারে মাত্র ৯ রানের বিনিময়ে চার উইকেট নেন। এছাড়া হাসান মুরাদ তিনটি উইকেট নেন, জিমি নিশাম দুটো ও আব্দুল গাফফার সাকলাইন একটি উইকেট নেন।
শেষ পর্যন্ত রাজশাহী ওয়ারিয়র্স ৬৩ রানের বড় ব্যবধানে জিতে বিপিএলের চ্যাম্পিয়ন হয়। এটি রাজশাহীর দ্বিতীয় বিপিএল শিরোপা; আগেরবার তারা ২০১৯-২০ মরসুমে রাজশাহী রয়্যালস হিসেবে ট্রফি জিতেছিল। বিপিএলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ চারবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স, তিনবারের হিসেবে রয়েছে ঢাকা, রাজশাহী ও বরিশালের দশা সমানভাবে দুইটি করে শিরোপা; আর একবার শিরোপা জিতেছে রংপুর রাইডার্স।
রাজশাহীর ধারাবাহিক ও শক্তিশালী প্রদর্শন তাদের দ্বিতীয়বারের মতো বিপিএলের শিরোপা নিশ্চিত করাল — একটি দলগত সাফল্য, যেখানে তানজিদের সেঞ্চুরি ও বিনুরার ধারালো বোলিং ছিল মূল চাবিকাঠি।
আজকের খেলা/ এমকে

