ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) মধ্যে কয়েক দশক ধরে আলোচিত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) শীঘ্রই চূড়ান্ত ঘোষণা হতে পারে — এমনই ইঙ্গিত দিয়েছে সরকারি সূত্র ও আন্তর্জাতিক সংবাদসংস্থাগুলো। শুক্রবারের রোহবার্তি অনুযায়ী, এই চুক্তি বাস্তবায়িত হলে ইউরোপীয় গাড়ি ও মদের উপর আমদানি শুল্ক হ্রাস পাবে এবং বিনিময়ে ভারতের তৈরি পোশাক, গয়না, ইলেকট্রনিক্স ও রাসায়নিক পণ্যের জন্য ইউরোপের বিশাল বাজার উন্মুক্ত হবে।
আঞ্চলিক সফরের সময় এই ঘোষণা আসার সম্ভাবনা রয়েছে: ২৫-২৮ জানুয়ারির মধ্যে উচ্চপর্যায়ের ইউরোপীয় প্রতিনিধিদের ভারত সফরের সময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে অনুষ্ঠিত দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে (সম্ভবত ২৭ জানুয়ারি) চূড়ান্ত ঘোষণার কথা আসে। চুক্তি কার্যকর হলে ভারত ও ইইউর অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাতে পারে বলে কূটনৈতিক মহলে আশা করা হচ্ছে।
এফটিএর পাশাপাশি ভারত ও ইইউ এক নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্ব চুক্তিতেও এগোতে পারে। এর ফলে দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের পরে ভারত তৃতীয় দেশের হিসেবে এমন ধরনের প্রতিরক্ষা সম্পর্ক গড়ে তোলার সম্ভাবনা পাবে। এছাড়া উচ্চদক্ষতার কর্মী ও শিক্ষার্থীদের চলাচলের জন্য একটি ‘মবিলিটি এগ্রিমেন্ট’ স্বাক্ষরের কথাও উঠেছে, যা কাজের বাজারে ও শিক্ষাবিনিময়ে নতুন সুযোগ তৈরি করবে।
বাণিজ্যিক পরিসংখ্যানও এই চুক্তির গুরুত্বকে स्पष्ट করে: ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ভারত ও ইইউর মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ছিল প্রায় ১৩৬.৫ বিলিয়ন ডলার — ইইউকে ভারতের অন্যতম প্রধান বাণিজ্যিক অংশীদার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। তবে চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার পরও ইইউ পার্লামেন্টের অনুমোদন ধরে আনুমানিক এক বছরেরও বেশি সময় লাগতে পারে।
চুক্তির আলোচনায় এখনও কিছু স্পর্শকাতর ইস্যু মজুদ আছে। বিশেষ করে গাড়ি আমদানি শুল্ক কমানোর বিষয়ে দু’পক্ষের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক চলছে; শুল্ক কমলে ভোক্তা পর্যায়ে ইউরোপীয় ব্র্যান্ডগুলোর প্রতিযোগিতা বাড়বে। তদুপরি ‘নন-ট্যারিফ ব্যারিয়ার’ বা অ-শুল্ক বাধার বিষয়গুলোও ভারতকে উদ্বিগ্ন করছে — ইইউর নতুন কার্বন ট্যাক্স ও ভারতের জন্য কিছু শুল্ক সুবিধা (জিএসপি) প্রত্যাহারের প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, জিএসপি প্রবিধান স্থগিত থাকলে ভারতের প্রায় ১.৯৫ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, এবং তাই এই এফটিএ দেশের জন্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।
বিশ্লেষকরা মনে করেন, সংযুক্ত চুক্তি ভারতের তৈরি পোশাক, চামড়া ও কৃষি-উৎপাদনের রপ্তানিকে বাড়াতে সাহায্য করবে এবং বাংলাদেশ কিংবা ভিয়েতনামের মতো প্রতিযোগীদের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় ভারসাম্য এনে দেবে। একাধিক শোনা-পরেছে, বিশ্ববাজারে চলমান অস্থিরতার সময় ভারত বিকল্প বাজারে প্রবেশের জোরালো চেষ্টা করছে, যা স্ট্র্যাটেজিক দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ।
যেমনটি উপত্যহার শীর্ষ নেতৃত্ব বলেছে, আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এলেও বিভিন্ন সংবেদনশীল খাত নিয়ে চূড়ান্ত দরকষাকষি এখনও চলছে। ফলে সিংহভাগ নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে সময় ও ধৈর্য প্রয়োজন হবে।
সূত্র: রয়টার্স
(আজকের খবর/ এমকে)

