নির্বাচনি কার্যক্রমে অংশগ্রহণকারী নারী কর্মীদের ওপর হামলা, হেনস্তা এবং ভোটকেন্দ্রে নিরাপত্তা ও সিসি ক্যামেরা স্থাপন নিয়ে উদ্বেগ নিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সচিবালয় থেকে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে নালিশ করেছে। দলটি সোমবার (২৬ জানুয়ারি) সিইসি’র সঙ্গে বৈঠক করে এই অভিযোগ জানায়।
দলটির প্রতিনিধিদলে ছিলেন সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, সাবেক সচিব ড. খ ম কবিরুল ইসলাম ও আরও একজন। বৈঠক শেষ করে এহসানুল মাহবুব জুবায়ের সংবাদদাতাদের বলেন, দেশের নানা এলাকায় বিশেষ করে ঢাকা-১৫ এসহ বিভিন্ন নির্বাচনী অঞ্চলে যখন নারী কর্মীরা প্রচারণায় নামছেন তখন তাদের ওপর হামলা চালানো হচ্ছে, অপদস্থ করা হচ্ছে এবং লজ্জাজনকভাবে নেকাব খোলার মতো ঘটনা ঘটছে। অনেকের মোবাইল ফোনও ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, নারীদের রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়া ইতিবাচক হলেও তাদের সাথে যে আচরণ করা হচ্ছে সেটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
জুবায়ের আরও জানান, ‘‘নারীরা বাড়ি গিয়ে এনআইডি বা বিকাশ নম্বর চাইছে’’—এমন দাবি সম্পূর্ণ অসত্য। তিনি আরো বলেন, জামায়াতের প্রতি জনগণের ব্যাপক সমর্থন দেখে একটি বড় দল ভয়ভীতি দেখানোর চেষ্টা করছে।
ভোটকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের বিষয়ে জামায়াত নেতারা অনিহ্য প্রকাশ করেন। তারা জানান, নির্বাচন কমিশন যে সিসি ক্যামেরা সংক্রান্ত সার্কুলার জারি করেছে তা এখনও বাস্তবে যথাযথভাবে কার্যকর হচ্ছে না; যেখানে ক্যামেরা দেওয়া হয়েছে সেখানে সংখ্যার দিক থেকে অপ্রতুলতা এবং অধিকাংশ ক্যামেরাই কেন্দ্রের বাইরের দিকে মুখ করে রাখা হয়েছে। জামায়াত দাবি করেছে কেন্দ্রে ভেতরের দৃশ্য গ্রহণের জন্যও ক্যামেরা থাকা প্রয়োজন, যাতে কোনো সন্ত্রাসী বা হিংসাত্মক ঘটনার প্রমাণ রেকর্ড করা যায়। এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় আর্থিক ও কারিগরি সহায়তার জন্য তারা প্রধান উপদেষ্টা ও অর্থ উপদেষ্টার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন বলে জানানো হয়।
নির্বাচনে ৫ শতাংশ নারী প্রার্থী দেওয়ার প্রতিশ্রুতি কেন রাখা হয়নি—এমন প্রশ্নের জবাবে জুবায়ের বলেন, পার্টির শাখা-প্রতিষ্ঠান এবং তৃণমূলের পরামর্শ অনুযায়ী প্রার্থী নির্ধারণ করা হয়, এবং এতে তাদের বিরত থাকার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। তিনি বলেন, অনেক নারী পারিবারিক ও সামাজিক বাস্তবতার কারণে সরাসরি নির্বাচনী লড়াইয়ে নামতে অনীহা প্রকাশ করেছেন; তবু তারা আশাবাদী যে ভবিষ্যতে নারী প্রার্থীর সংখ্যা বাড়বে।
প্রবাসীদের পোস্টাল ব্যালটের সময়সীমা বিষয়ে বিভ্রান্তি দূর করতে জুবায়ের জানান, নির্বাচন কমিশন আশ্বস্ত করেছে যে ৩০ বা ৩১ তারিখে পোস্টাল ব্যালট পাঠালেও সেটি যদি ১২ তারিখের মধ্যে পৌঁছায় তবে গ্রহণ করা হবে।
এছাড়াও জামায়াত প্রশাসনের কিছু কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একপাক্ষিক আচরণ সম্পর্কে নির্বাচন কমিশনের কাছে প্রতিকার দাবি করেছে। তারা আশা প্রকাশ করেছে, নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসন দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়ে একটি সুষ্ঠু ও সমতল ভোটপরিবেশ নিশ্চিত করবে।
সূত্র: আজকালের খবর/বিএস

